‘আমার পেটে ওর’ই সন্তান!’ এটা কী বলল নববধূ? শুনে ভেঙে পড়লেন স্বামী…,তোলপাড় নেটপাড়া

সম্প্রতি মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সম্পর্ক পরামর্শদাতা কিশান সিংহের ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা একটি ভিডিও নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া তোলপাড়। ভিডিওটিতে তিনি এক ক্লায়েন্টের জীবনের মর্মস্পর্শী ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা তুলে ধরেছেন। নাম ও স্থান গোপন রাখা হলেও, এই ঘটনা প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ এবং নৈতিকতার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

কিশান সিংহের বর্ণনা অনুযায়ী, তার ক্লায়েন্ট এক অনলাইন ম্যাট্রিমনিয়াল সাইটের মাধ্যমে সুষমা নামের এক নারীকে বিয়ে করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁদের পরিবারে সুখ আসে, যখন সুষমা গর্ভবতী হন। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাস পর এক অপ্রত্যাশিত ফোনকলে তাদের সুখী জীবনের ওপর নেমে আসে বিপর্যয়। সুষমার প্রাক্তন প্রেমিক অঙ্কিত ফোন করে জানান, তাঁদের তিন বছরের সম্পর্ক ছিল, যা সুষমার পরিবারও জানত। কিন্তু অঙ্কিতের স্বল্প আয়ের কারণে পরিবার তাঁদের বিয়েতে রাজি হয়নি।

এরপর আসে সবচেয়ে বড় ধাক্কা। অঙ্কিত দাবি করেন, সুষমা বিয়ের ঠিক আগের দিন তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। সুষমার ইচ্ছা ছিল, তাঁর গর্ভে অঙ্কিতের সন্তান আসুক, এমনকি যদি তাঁকে অন্য কাউকে বিয়ে করতে হয়ও। এই দাবির সত্যতা প্রমাণ করতে অঙ্কিত ওই যুবককে কিছু অন্তরঙ্গ ছবিও দেখান।

হতভম্ব যুবক যখন সুষমাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেন, তখন তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে সব স্বীকার করেন। তিনি জানান, বিয়ের আগের দিন অঙ্কিতের অনুরোধে তিনি শেষবারের মতো দেখা করতে গিয়েছিলেন এবং বর্তমানে তাঁর গর্ভে অঙ্কিতেরই সন্তান।

এই সত্য জানার পর ওই যুবক মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, “আমি জানি না এখন কী করব। সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, সুষমার পরিবার সবকিছু জেনেও আমার কাছে গোপন করেছে।”

এই ঘটনা সামনে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকেই ওই যুবকের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। একজন মন্তব্যকারী লিখেছেন, “প্রতারণা তো প্রতারণাই, সেটা যেভাবেই হোক না কেন। এই ছেলেটার ন্যায়বিচার পাওয়া উচিত।”

অনেকে আবার আইনি জটিলতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। ভারতের এভিডেন্স অ্যাক্ট, ১৮৭২-এর সেকশন ১১২ অনুযায়ী, বৈধ বিয়ের সময় জন্ম নেওয়া সন্তানকে স্বামীর সন্তান বলেই ধরে নেওয়া হয়। এমনকি, বিয়ের বিচ্ছেদের ২৮০ দিনের মধ্যে যদি স্ত্রীর পুনরায় বিয়ে না হয়, তাহলেও এই নিয়ম প্রযোজ্য। এই ধরনের আইনি জটিলতা ভুক্তভোগী যুবকের পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

এই ঘটনা সমাজে এমন এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছে, যা সম্পর্ক, বিশ্বাস এবং প্রতারণার গভীর দিকগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবাতে বাধ্য করছে।