গাভাস্করের ক্ষোভ, ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের সমালোচনায় সিরাজের উদাহরণ

ইংল্যান্ড সফরের পর দেশে ফিরেছে ভারতীয় ক্রিকেট দল। ওভাল টেস্টের রেশ এখনও কাটেনি, বিশেষ করে শেষ দিনে মহম্মদ সিরাজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। পুরো সিরিজেই প্রায় ১৮৭ ওভার বোলিং করেছেন সিরাজ। ক্লান্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, দেশের জন্য খেলতে গিয়ে তাঁর কোনো ক্লান্তি আসেনি। এরই মধ্যে, কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কার বোর্ডের ‘ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট’ নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং এক্ষেত্রে সিরাজের উদাহরণ টেনেছেন।

ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট কি অপ্রয়োজনীয়?
ইংল্যান্ড সফরের শুরুতেই বোর্ড জানিয়েছিল, ফাস্ট বোলার জসপ্রীত বুমরাকে সিরিজে তিনটি ম্যাচে খেলানো হবে। সেই অনুযায়ী, তাঁকে তিন টেস্টেই খেলানো হয়েছে। তবে ওভালে শেষ টেস্টে বুমরাকে স্কোয়াড থেকে রিলিজ করে দেওয়া হয়, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়, চোটের কারণে তাঁকে খেলানো হয়নি।

গাভাস্কার বলেন, সিরাজের পারফরম্যান্সের পর ভারতীয় বোর্ডের অভিধান থেকে ‘ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট’ শব্দটি মুছে ফেলা উচিত। তিনি স্পষ্ট করে দেন, তাঁর এই মন্তব্য বুমরাকে নিয়ে নয়, বরং নীতিগত বিষয়ে।

দেশপ্রেমই সেরা অনুপ্রেরণা
গাভাস্কার সিরাজের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “যখন দেশের হয়ে খেলছো, তখন ব্যথা-চোটের কথা ভুলে যেতে হবে। সীমান্তে আমাদের সেনারা কি কখনো অভিযোগ করে যে কতটা ঠান্ডা? ঋষভ পন্থ যেভাবে পায়ে চোট নিয়েও ব্যাটিংয়ে নেমেছিল, সেটাই একজন খেলোয়াড়ের মানসিকতা হওয়া উচিত। দেশের হয়ে খেলা মানেই সম্মানের বিষয়।”

তিনি আরও বলেন, “মহম্মদ সিরাজকেই দেখুন, ও প্রাণপণে বোলিং করেছে। ওয়ার্কলোডের বিষয়টা আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। পাঁচ টেস্টে ৭-৮ ওভারের স্পেল করেছে কারণ, ক্যাপ্টেন এবং দেশ তার থেকে এটাই প্রত্যাশা করেছিল।” গাভাস্কারের মতে, সিরাজের এই দৃঢ় মানসিকতাই প্রমাণ করে যে, দেশের হয়ে খেলার সময় কোনো ধরনের ক্লান্তি বা ছুতো খোঁজা উচিত নয়।