সংসদে তৃণমূল সাংসদদের কম হাজিরা নিয়ে বিতর্ক, বিজেপির আক্রমণ

সদ্যসমাপ্ত লোকসভা অধিবেশনে তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন সাংসদের কম হাজিরা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দলীয় সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এই বিষয়ে অভিযোগ তুলেছেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূলের ২৯ জন সাংসদের মধ্যে ১০-১১ জন নিয়মিত উপস্থিত থাকলেও বাকিদের হাজিরা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংসদীয় ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ঘাটলের সাংসদ দেবের হাজিরা সবচেয়ে কম, মাত্র ৯%।

হাজিরা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য
সংসদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে, তৃণমূল সাংসদদের মধ্যে অনেকেই অধিবেশনে অনুপস্থিত ছিলেন। দেবের পরেই সবচেয়ে কম হাজিরা ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিকের (১৫%)। এরপর কলকাতা দক্ষিণের সাংসদ মালা রায় (২৩%), হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (৩৬%), কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বসুনিয়া (৪৭%) এবং বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী (৪৯%)। বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠানের হাজিরাও ৪৯%। অন্যদিকে, কলকাতা উত্তরের সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাজিরা ৫৯% এবং বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারের হাজিরা ৬০%।

কিছু সাংসদের উপস্থিতি প্রশংসনীয়
তবে, সব তৃণমূল সাংসদের হাজিরা কম নয়। সায়নী ঘোষ, মহুয়া মৈত্র, অসিত মাল এবং কীর্তি আজাদের মতো কয়েকজন সাংসদের উপস্থিতি ৯০%-এর বেশি, যা প্রশংসনীয়। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের হাজিরা ৮৯%।

বিজেপি সাংসদদের রেকর্ডও এই সময়ে বেশ ভালো। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার ও শান্তনু ঠাকুরকে বাদ দিয়েও বিজেপির ১০ জন সাংসদের মধ্যে ৮ জনের হাজিরা ৯০%-এর বেশি। জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো এবং সৌমিত্র খাঁ-র হাজিরাও যথাক্রমে ৭৯% এবং ৮৪%, যা রাজ্যের গড়ের (৭১%) চেয়ে বেশি। কংগ্রেস সাংসদ ইশা খানের হাজিরাও ৮৯%।

বিজেপির তীব্র আক্রমণ
এই বিষয়ে বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করে বলেছেন, “মানুষ আপনাদের বিশ্বাস করে সংসদীয় ক্ষেত্রের কথা বলার জন্য পাঠিয়েছেন আর আপনারা বাড়িতে বসে বিশ্রাম করছেন! মুখ্যমন্ত্রীকে এর জবাব দিতে হবে, তিনি কাদের সংসদে পাঠিয়েছেন?”

বেতন ও সুযোগ-সুবিধা সত্ত্বেও কেন অনুপস্থিতি?
একজন সাংসদ হিসেবে একজন জনপ্রতিনিধি প্রতি মাসে ১ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা বেতন, ৭০ হাজার টাকা সংসদ ভাতা এবং ৬০ হাজার টাকা অফিস ভাতার পাশাপাশি আরও অনেক সুযোগ-সুবিধা পান। এর মধ্যে প্রতিদিনের অধিবেশনের জন্য ভাতা, বিনামূল্যে আবাসন, যাতায়াত ভাতা, বিনামূল্যে বিদ্যুৎ ও জল, এবং অবসর গ্রহণের পর পেনশনও অন্তর্ভুক্ত। এতো সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও কেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সংসদে যাচ্ছেন না, তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ এবং হতাশা তৈরি হয়েছে।