২১ শের মঞ্চে উপস্থিত কাজল শেখ, অনুব্রত কই? কেষ্টর রাজনৈতিক ভবিষ্যত্‍ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের শেষ একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ থেকে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত ভোটের যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিয়েছেন। দলের ছোট-বড় সব নেতাই এই হাইভোল্টেজ কর্মসূচিতে হাজির ছিলেন, কিন্তু এর মধ্যেই সকলের নজর এড়িয়ে যেন ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’ হয়ে রইলেন বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল। সোমবারের কর্মসূচিতে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

রবিবার বিকেলে ধর্মতলার সভাস্থলে বীরভূমের এই দাপুটে নেতাকে দেখা গেলেও, সোমবারের মূল কর্মসূচিতে তিনি আদৌ উপস্থিত ছিলেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বীরভূম তথা রাজ্য রাজনীতিতে অনুব্রত মণ্ডল ও কাজল শেখের ‘সুসম্পর্ক’ সর্বজনবিদিত। এমনকি এই সংঘাত মেটাতে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল। সোমবার তৃণমূলের শহিদ স্মরণ মঞ্চে সেই কাজল শেখ উপস্থিত থাকলেও, তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের বড় অংশই বলছেন, তাঁরা কোথাও অনুব্রতকে দেখেননি – না মঞ্চে, না দর্শকাসনে, না মঞ্চের পিছনে। একই দাবি করেছেন কাজল শেখও।

তবে, অনুব্রত মণ্ডল নিজেই দাবি করেছেন, “আমি সভায় গিয়েছিলাম। গগন (সরকার) আর নারায়ণের (হালদার) সঙ্গে মিছিল করে গিয়েছিলাম। প্রথম দিকে মঞ্চেও উঠেছিলাম। তবে খুব গরম লাগছিল বলে তাড়াতাড়ি নীচে নেমে এসে মঞ্চের পিছনের দিকের একটা অস্থায়ী শিবিরে পাখার নীচে বসেছিলাম।”

‘ঘনিষ্ঠ’দের ছবিতেও অনুপস্থিতি, দলনেত্রীর সঙ্গে দেখা না হওয়ার জল্পনা

সোমবার কলকাতায় বীরভূমের শিক্ষা সেলের নেতা প্রলয় নায়েক, যিনি অনুব্রতর ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত, তিনি মিছিল করেন এবং কলকাতার মিছিলের একটি ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন। সেখানেও অনুব্রতকে দেখা যায়নি।

প্রসঙ্গত, রবিবার ধর্মতলায় তৃণমূলের শহিদ দিবসের সভাস্থলে মূল মঞ্চে যাওয়ার পথে অনুব্রতকে পুলিশ আটকে দেয়। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর সেখান থেকে চলে যান তৃণমূলের বীরভূমের প্রাক্তন জেলা সভাপতি। অনুব্রতর চলে যাওয়ার প্রায় ঘণ্টাখানেক পর সভাস্থলে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সেদিন অনুব্রতর দেখা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে কেউ কেউ মনে করছেন, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা না করতে পেরে আগের দিনই কেষ্ট অপমানবোধ করেছিলেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, রাজনীতিতে নিজের জায়গা হারানোর ফলে অনুব্রত নিজেই নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছেন।

বিতর্কের আবর্তে অনুব্রত: সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ

গরু পাচার মামলায় সিবিআই কর্তৃক গ্রেফতার হওয়ার পর তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। কয়লা ও গরুপাচারকাণ্ডে ইডি-সিবিআই যখন অনুব্রতকে নিয়ে টানাহেঁচড়া করছিল, তখন তাঁর জেলযাত্রা রুখতে চেষ্টার কোনো কসুর করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তবে, সেই অনুব্রত মণ্ডলকে সম্প্রতি বোলপুরের আইসির মা-বোন তুলে কুৎসিত ভাষায় গালিগালাজ করতে শোনা গেছে, যার জেরে তাকে ক্ষমা চাইতে বলে দল। এর আগে গত মে মাসে বীরভূমে তৃণমূলের জেলা সভাপতি পদ থেকে অনুব্রত মণ্ডলকে সরিয়ে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, ওই জেলায় জেলা সভাপতি পদই আর রাখেনি শাসকদল, বরং তা তুলে দেওয়া হয়।

এই সমস্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে অনুব্রতর অনুপস্থিতি, তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণ নিয়ে নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে।