প্রিন্সিপালের কাছে থাকবে চাবি, ইউনিয়ন রুমে ঢুকতে হলে করতে হবে এই কাজ! বিজ্ঞপ্তি জারি উচ্চশিক্ষা দফতরের

সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজে প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনার জেরে অবশেষে নড়েচড়ে বসল রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দফতর। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে মান্যতা দিয়ে রাজ্যের সমস্ত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিয়ন রুম বন্ধ রাখার বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে ছাত্র রাজনীতির ভবিষ্যৎ এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ই জুলাই) উচ্চশিক্ষা দফতর থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “বর্তমানে বেশকিছু কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ইউনিয়ন রুমে অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে। বহুদিন যাবৎ কলেজগুলিতে কোনও স্টুডেন্ট কাউন্সিল নেই। এমনকি হয়নি কোনও ছাত্র সংসদ নির্বাচন। এই পরিস্থিতিতে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিয়ন রুম বন্ধ থাকবে।”

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রার বা নিবন্ধকের কাছে এবং কলেজের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে ইউনিয়ন রুমের চাবি থাকবে। ইউনিয়ন রুমে প্রবেশের প্রয়োজন হলে তা লিখিত আবেদন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পরেই কেবল রুম খোলা হবে। তবে, এই নির্দেশিকা পড়ুয়াদের কমন রুমের জন্য প্রযোজ্য হবে না।

উল্লেখ্য, গত ২৫শে জুন সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজের ইউনিয়ন রুম ও গার্ড রুমে প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে ওই কলেজের দুই পড়ুয়া ও এক প্রাক্তনীর বিরুদ্ধে। ছাত্র সংসদ না থাকায় ইউনিয়ন রুমগুলি খোলা থাকা নিয়ে তখন থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এরপর এই ঘটনা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয় এবং হাইকোর্ট ইউনিয়ন রুম বন্ধের নির্দেশ দেয়। অবশেষে উচ্চশিক্ষা দফতর সেই নির্দেশিকা কার্যকর করল।

যদিও কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর রাজ্যের বেশ কিছু কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যেই ইউনিয়ন রুম বন্ধ রেখেছিল। যেমন, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় তিন মাস আগে থেকেই ইউনিয়ন রুম বন্ধ রেখেছিল এবং এ বিষয়ে একটি অ্যাডভাইজারি জারি করার প্রক্রিয়াও শুরু করেছিল। দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ায় বিরোধীরা বারবার প্রশ্ন তুলে আসছে।

শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানিয়েছেন, এ বিষয়ে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) জারি করা হবে। তবে সেই এসওপি কবে থেকে রাজ্যের কলেজগুলির জন্য কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদার হবে বলে মনে করা হচ্ছে, তবে ছাত্র রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।