পাইলট জ্বালানির সুইচটি হঠাৎ বন্ধ করে শান্ত ছিলেন? AIR INDIA -দুর্ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

আহমেদাবাদে গত ১২ই জুন এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান এআই-১৭১ ঠিক কী কারণে ভেঙে পড়েছিল, তা নিয়ে এবার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এল। পাইলটের ‘দোষেই’ কি ঘটেছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা? দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক রিপোর্টে তেমনই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে বিমান চলাচল মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিস্ফোরক দাবি:
আমেরিকান কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল দাবি করেছে যে, দুর্ঘটনার মূলে রয়েছে পাইলটের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচ বন্ধ করে দেওয়া। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত এআই-১৭১ বিমানটির ককপিটে সেদিন ছিলেন ৫৬ বছর বয়সী ক্যাপ্টেন সুমিত সবরওয়াল, যাঁর বিমান চালানোর ১৫ হাজার ৬৫৮ ঘণ্টার অভিজ্ঞতা ছিল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ৩২ বছর বয়সী ফার্স্ট অফিসার ক্লিভ কুন্দর, যাঁর অভিজ্ঞতা ছিল ৩ হাজার ৪০৩ ঘণ্টা।

রিপোর্ট অনুযায়ী, টেকঅফের কয়েক সেকেন্ড পর ফার্স্ট অফিসার ক্যাপ্টেনকে জিজ্ঞাসা করেন যে, কেন তিনি জ্বালানির সুইচ ‘রান’ (চালু) অবস্থা থেকে ‘কাট অফ’ (বন্ধ) করলেন। জ্বালানির সুইচ বন্ধ অবস্থায় দেখে ফার্স্ট অফিসার আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন, কিন্তু ক্যাপ্টেন সে সময় শান্ত ছিলেন। তবে এই প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট এভাবে প্রকাশ্যে আসায় ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান পাইলটস উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

তদন্ত রিপোর্ট কী বলছে?
বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত করছে এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)। সম্প্রতি তারা ১৫ পাতার একটি তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। সেই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিমানটি ওড়ার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দুটি ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বিমানের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচগুলি ৩ সেকেন্ডের মধ্যে ‘রান’ থেকে ‘কাটঅফ’ অবস্থানে চলে আসে।

তবে, এই ঘটনাটি দুর্ঘটনাবশত ঘটেছে নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে, তা রিপোর্টে স্পষ্ট করা হয়নি। রিপোর্টে দুই পাইলটের কথোপকথনও উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে একজন পাইলট অন্যজনকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘কেন তুমি বন্ধ (জ্বালানি) করে দিলে?’ উত্তরে অন্য পাইলট বলেন, ‘আমি কিছু বন্ধ করিনি।’ এই কথোপকথন রহস্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

প্রসঙ্গত, গত ১২ই জুন আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের উদ্দেশে ওড়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ভেঙে পড়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-১৭১ বিমানটি। এই ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় একজন যাত্রী বাদে বিমানের সকল আরোহীর মৃত্যু হয়েছিল, যা দেশজুড়ে শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছিল। এখন এই নতুন তথ্য দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে আরও গভীর তদন্তের দাবি তুলছে।