‘মরণফাঁদ’ যেন বীরভূমের এই সড়ক, ক্ষোভে ফুঁসছে জনতা

এ যেন এক ‘মৃত্যুকূপ’ সড়ক! একই রাস্তায় বারবার পথ দুর্ঘটনা দেখে দেখে অভ্যস্ত বীরভূমের বিনোদপুর গ্রামের মানুষ। কিন্তু এবার যা ঘটল, তা সেই চেনা চিত্রকেও ছাপিয়ে গেল। স্পিড ব্রেকারের অভাবে আবারও মর্মান্তিক পরিণতি দেখল এলাকা। কচু বোঝাই একটি ট্রাক্টরের চাকা ভেঙে উল্টে গিয়ে প্রাণ হারালেন এক যুবক, গুরুতর আহত হলেন আরও চারজন। এই ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা, প্রশাসনের বিরুদ্ধে উঠেছে চরম গাফিলতির অভিযোগ।

বৃহস্পতিবার রামপুরহাট থেকে নলহাটিগামী একটি দ্রুতগতির ট্রাক্টর বিনোদপুর মোড়ের কাছে হঠাৎই একটি খালের মধ্যে পড়ে যায়। মুহূর্তেই চাকা ভেঙে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় কচু ভর্তি ট্রাক্টরটি। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন ট্রাক্টরের কর্মী, ২৯ বছর বয়সী নকুল লেট। তাঁর বাড়ি নলহাটি থানার গুমরা গ্রামে। চোখের সামনে এমন বীভৎস দৃশ্য দেখে শিউরে ওঠেন স্থানীয়রা।

ক্ষতবিক্ষত জনপথ: আহত আরও চারজন, স্থানীয়দের বিক্ষোভে উত্তাল এলাকা
এই দুর্ঘটনায় শুধুমাত্র নকুল লেট-এর প্রাণহানি হয়নি, গুরুতর জখম হয়েছেন এলাকার আরও চারজন বাসিন্দা। খবর পেয়ে রামপুরহাট থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আহতদের উদ্ধার করে রামপুরহাট গভর্মেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর পরই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁদের অভিযোগ, এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরেই স্পিড ব্রেকারবিহীন। বারবার দুর্ঘটনার পরেও প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। দ্রুত গতির যান নিয়ন্ত্রণে রাস্তার কোথাও কোনও স্পিড ব্রেকার না থাকার কারণেই এমন ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করেন তাঁরা। এই অব্যবস্থার প্রতিবাদে স্থানীয়রা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।

৭২ ঘণ্টার আশ্বাস: পুলিশ-প্রশাসনের প্রতিশ্রুতিতে উঠল অবরোধ
জনতার রোষ সামলাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় পুলিশ প্রশাসন। দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর, প্রশাসনের তরফ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ওই রাস্তায় স্পিড ব্রেকার বসানোর আশ্বাস দেওয়া হয়। এই আশ্বাসের পরই স্থানীয় বাসিন্দারা অবরোধ তুলে নেন।

যদিও এই আশ্বাস কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে সন্দিহান এলাকার মানুষ। কারণ অতীতেও এমন প্রতিশ্রুতি মিলেছে, কিন্তু কাজের কাজ হয়নি। এখন দেখার বিষয়, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর প্রশাসন সত্যিই নড়েচড়ে বসে, নাকি বীরভূমের এই ‘মৃত্যুকূপ’ সড়ক আবারও কোনও প্রাণ কেড়ে নেওয়ার অপেক্ষায় থাকবে। এই ঘটনা প্রশাসনের গাফিলতি এবং জন সুরক্ষার প্রশ্নটিকে আরও একবার সামনে নিয়ে এল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *