“১০ মিনিটে ডেলিভারির চাহিদা”-৩ বছরে ক্যুইক কমার্স বাজার ২০০% বাড়বে ভারতে

চাল, ডাল, তেল, নুন থেকে শুরু করে টুথপেস্ট, সাবান এবং এমনকি টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটরের মতো গৃহস্থালীর জিনিসপত্র – ঘরে বসেই অর্ডার দেওয়ার মাত্র ১০ মিনিট থেকে আধ ঘণ্টার মধ্যে হাতে পাওয়ায় ভারতে দ্রুত গতিতে বাড়ছে কুইক কমার্স (Quick Commerce)। সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে এই খাতের অভাবনীয় প্রবৃদ্ধির তথ্য উঠে এসেছে।

দ্বিগুণ হয়েছে অর্ডার, শীঘ্রই তিনগুণ হবে ব্যবসা
কেয়ারএজ রেটিংস-এর একটি শাখা সংস্থা কেয়ারএজ অ্যাডভাইজরি-র রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ব্লিঙ্কইট (Blinkit) এবং ইনস্টামার্টের (Instamart) মতো কুইক কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলির মাধ্যমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ক্রেতারা ৬৪ হাজার কোটি টাকার পণ্য অর্ডার দিয়েছে। যা তার আগের অর্থবছরের (৩০ হাজার কোটি টাকা) অর্ডারের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে যে, আগামী তিন অর্থবছরের মধ্যে, অর্থাৎ ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে, মোট অর্ডারের অঙ্ক তিন গুণের বেশি বেড়ে ২ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছাবে।

প্ল্যাটফর্ম ফি থেকে আয় বৃদ্ধি, মুনাফায় জোর
ব্লিঙ্কইট, ইনস্টামার্টের মতো প্ল্যাটফর্মগুলি গত অর্থবছরে প্ল্যাটফর্ম ফি বাবদ মোট ১০,৫০০ কোটি টাকা পকেটস্থ করেছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে এই অঙ্ক ছিল মাত্র ৪৫০ কোটি টাকা। কেয়ারএজ অ্যাডভাইজরি আশা করছে, ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে তা বেড়ে ৩৪,৫০০ কোটি টাকা হবে। সংস্থাটি দাবি করেছে, ভারতের প্রথম সারির কুইক কমার্স সংস্থাগুলি তাদের প্ল্যাটফর্ম ফি বাড়িয়ে দেওয়ার কারণেই আয় এবং গ্রস অর্ডার ভ্যালু (GOV) এত বেড়েছে।

কুইক কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলি এখন শুধু অর্ডার বাড়ানোর লক্ষ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখছে না, তারা মুনাফার উপরে বিশেষ জোর দিতে শুরু করেছে। এর পাশাপাশি, বিজ্ঞাপন কাজে লাগানো, সাবস্ক্রিপশন বাড়ানো, প্রাইভেট লেবেলের পণ্যের বিক্রিতে জোর দেওয়া এবং মজুত থাকা পণ্যের হিসাব রাখার জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে এই প্ল্যাটফর্মগুলি। লেনদেন খরচের একটি অংশ ‘টেক রেট’ হিসাবে গণ্য হয়, যা প্ল্যাটফর্মগুলি আয় হিসাবে নিজেদের কাছে রাখে। এই ‘টেক রেট’ ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট লেনদেন খরচের ৭-৯ শতাংশ ছিল, যা এখন বেড়ে ১৮ শতাংশ হয়েছে।

মুনাফা ও পরিচালন দক্ষতায় নজর, টিয়ার-২ ও টিয়ার-৩ শহরে প্রবেশ
কেয়ারএজ অ্যাডভাইজরির প্রধান তনভি শাহ বলেন, “কুইক কমার্স সংস্থাগুলির নজর দ্রুত ব্যবসা বিস্তারের থেকে সরে মুনাফা এবং পরিচালন দক্ষতা বাড়ানোর উপরে জোর দিচ্ছে। প্রযুক্তি নির্ভর উদ্ভাবনা সমেত টিয়ার-২, টিয়ার-৩ শহরগুলিতে প্রবেশের ফলে এই ক্ষেত্রের দ্বিতীয় পর্যায়ের বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে।”

ভারতে মোট মুদিখানার সামগ্রীর চাহিদার মাত্র এক শতাংশ বর্তমানে কুইক কমার্সের মাধ্যমে কেনা হয়ে থাকে। কেয়ারএজ অ্যাডভাইজরির অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর আমির শেখ জানিয়েছেন, সহজে এবং বাড়ির দোরগোড়ায় অল্প সময়ের মধ্যে পণ্য পেয়ে যাওয়ার সুবিধার কারণে এই ক্ষেত্রের দ্রুত বৃদ্ধি অবশ্যম্ভাবী।

ভারতের ডিজিটাল বাজারের চিত্র
২০২৪ সালে ভারতে ২৭ কোটিরও বেশি অনলাইন ক্রেতা ছিল, যা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম। গত বছর দেশের ই-কমার্স বাজার বার্ষিক ২৩.৮ শতাংশ হারে বেড়েছে। আর চলতি বছরের গোড়ার হিসাব ধরলে ভারতে ১১২ কোটির বেশি মোবাইল সংযোগ রয়েছে।

কেয়ারএজ জানিয়েছে, স্মার্টফোনের ব্যবহারও খুব দ্রুত বেড়ে চলেছে। সাধারণের হাতে খরচের মতো উদ্বৃত্ত অর্থের জোগান এবং বেশি খরচ করার ক্ষমতাও কুইক কমার্স ব্যবসা দ্রুত বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগামী দিনগুলিতে ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতিতে কুইক কমার্স একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *