“জমি নিয়ে তুমুল ঝগড়া…”-বচসায় তৃণমূল নেতাকে খুনের অভিযোগ অন্য তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে

মালদার ইংরেজবাজারের লক্ষীপুরে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় সাত বিঘা জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিবাদের জেরে তৃণমূলের এক নেতাকে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলেরই আরেক নেতার বিরুদ্ধে। পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার রাতে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ মূল অভিযুক্তকে আটক করেছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে ইংরেজবাজারের লক্ষীপুর এলাকার এক বন্ধুর জন্মদিনের পার্টিতে গিয়েছিলেন দু’জন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা। অভিযোগ উঠেছে, সবাই যখন উৎসবের আনন্দে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময়ে আবুল কালাম আজাদকে (৪০) ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করে পালিয়ে যান অভিযুক্ত মাইনুল হক (৩৮)। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই ইংরেজবাজার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। শুক্রবার সকালে পুলিশ অভিযুক্ত মাইনুল হককে আটক করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত তৃণমূল নেতা আবুল কালাম আজাদ ইংরেজবাজার এলাকার মিলকি গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য ছিলেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা মাইনুল হক কাজিগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য। মাইনুল গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে কংগ্রেসের টিকিটে ভোটে জিতলেও, কয়েক মাস আগেই জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সির হাত ধরে তৃণমূলে যোগদান করেছিলেন। নিহত আবুল কালাম আজাদের বাড়ি মানিকচকের গোপালপুর এলাকায়, আর অভিযুক্ত মাইনুল হকের বাড়ি কাজিগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের লক্ষীপুর গ্রামে।

অভিযোগ উঠেছে, সাত বিঘা একটি জমি নিয়ে আবুল কালাম আজাদ এবং মাইনুল হকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিবাদ চলছিল। অভিযুক্ত মাইনুল হক ও তার পরিবারের দাবি, ওই জমির মালিকানা তাদের। অথচ আবুল কালাম আজাদ কাউকে না জানিয়ে সেই জমি বিক্রি করে দিয়েছেন। এই কথা জানার পরেই তাদের মধ্যে বিবাদ চরমে ওঠে। স্থানীয় সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার জন্মদিনের পার্টিতে যাওয়ার পর দু’জন আলাদা একটি ঘরে ছিলেন। সেই সময়ে তাদের মধ্যে তীব্র বচসা বাধে এবং এর পরেই খুনের ঘটনাটি ঘটে। পার্টিতে যোগ দেওয়া লোকজন কিছুক্ষণ পরে ওই ঘরে গিয়ে আবুল কালাম আজাদকে রক্তাক্ত ও মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তারাই আজাদের বাড়িতে খবর দেন।

পুলিশ সূত্রের খবর, আজাদের বাবা রাতেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ইংরেজবাজার ব্লক এবং জেলা তৃণমূলের সভানেত্রী প্রতিভা সিংহ এই ঘটনা সম্পর্কে বলেন, “আমি কিছুক্ষণ আগেই এই ঘটনার কথা জানতে পেরেছি। ২০১৮ সালে মাইনুল পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য নির্বাচিত হয়েছিল। কিন্তু ওর নামে অনেক অভিযোগ রয়েছে। কার নেতৃত্বে ও দলে যোগ দিয়েছে আমি জানি না। আমি জানি ও কংগ্রেসেরই সদস্য। তৃণমূলের নয়।”

অন্যদিকে, বিজেপি জেলার সাধারণ সম্পাদক অম্লান ভাদুড়ি এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “প্রশাসনের কাছে আমার আবেদন যারা এই ঘটনার পিছনে জড়িত, তাদের যেন গ্রেফতার করা হয়। যারা এই ধরনের কাজ করে, তারা কখনও দলের নেতা-কর্মী হতে পারে না।”

এই ঘটনায় মালদার রাজনৈতিক মহলে এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *