ফের দিলীপের মুখে মমতার প্রশংসা, বললেন- “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্নীতিতে দোষী নন”

দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে টানাপড়েনের পর ফের চেনা ছন্দে ফিরছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। রাজ্য রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর বক্তব্য ও অবস্থান বারবারই আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। এবার দিল্লিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক সেরে ফের মুখ খুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গে—আর সেই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক মহলে চর্চা তৈরি করেছে।

নবনিযুক্ত রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্বীকার করেছেন, দিলীপ ঘোষের সঙ্গে দলের মধ্যে একটা অল্প সময়ের ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল ঠিকই, তবে তিনি কোনও ভাবেই “বাইরের লোক” নন। বরং আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই আরও সংগঠিত ও দৃঢ়ভাবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে রাজ্যের বিজেপি—এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

বুধবার দিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে দলের সদর দফতরে হাজির হন দিলীপ ঘোষ ও তাঁর স্ত্রী। সেখানে তিনি বিজেপির সর্বভারতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) শিব প্রকাশের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ বলেন:

“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্নীতিতে দোষী সাব্যস্ত নন। বরং তাঁর আশপাশে যারা ছিলেন, তাঁরাই দুর্নীতির অভিযোগে দাগি হয়েছেন।”

এই বক্তব্যে বিস্মিত রাজনৈতিক মহল। কেননা, এতদিন পর্যন্ত বিজেপির কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য নেতৃত্ব বরাবরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে এসেছে।

একসময় দিলীপ ঘোষের দলবদলের জল্পনা চরমে উঠেছিল। কিন্তু শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে বৈঠকের পর তা অনেকটাই স্তিমিত হয়। তখন মনে করা হয়েছিল, বিজেপির অন্দরে অন্তর্দ্বন্দ্বের অবসান হয়েছে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে দিলীপ ঘোষের এই নতুন মন্তব্য আবারও প্রশ্ন তুলে দিল—তবে কি সবকিছু এখনও সম্পূর্ণ মিটে যায়নি?

দিলীপের মন্তব্য অনুযায়ী,“আমি প্রশংসা করিনি, শুধু বলেছি যাঁর নামে এত অভিযোগ, তাঁর নামে কোনও কেস নেই। যাঁরা বলছেন, তাঁদের নামেই তো একাধিক মামলা আছে। আমি কারও পাশে বসলেই কি চোর প্রমাণ হয়ে যাব?”

দিঘায় জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একই মঞ্চে উপস্থিত হওয়া নিয়েও বিতর্কে জড়িয়েছিলেন দিলীপ। তখনও তিনি বলেছিলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আদালত দোষী বলেননি।” এবার সেই একই বার্তা আবারও শোনা গেল তাঁর মুখে।

এই বিষয়ে এখনো পর্যন্ত বিজেপির রাজ্য বা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কেউ প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। তবে দিলীপ ঘোষের বারংবার এমন মন্তব্য, বিশেষত মমতার বিরুদ্ধে পার্টির স্থায়ী অবস্থানের বিপরীতমুখী বক্তব্য, যে দলীয় অস্বস্তি বাড়াচ্ছে, তা বলাই যায়।

দিলীপ ঘোষের সাম্প্রতিক অবস্থান রাজনীতির এক জটিল রূপরেখা তৈরি করছে। নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে তিনি হয়তো দুর্নীতির বিরুদ্ধে সততা বজায় রাখার বার্তা দিচ্ছেন, কিন্তু দলের অবস্থানের সঙ্গে কতটা সাযুজ্য রক্ষা করছেন, সেই প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক মহলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *