ব্রহ্মপুত্র নদে বাঁধ, ‘জল বোমা’য় ভারতকে ডুবিয়ে মারতে নতুন চাল চিনের? বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী!

ভারত-চিন সীমান্তে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াল চিনের জল-কৌশল। ব্রহ্মপুত্র নদের উপর বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি করছে বেজিং। আর সেই প্রকল্পকে ভারতের জন্য ‘জলের বোমা’ বলে মন্তব্য করলেন অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডু। তাঁর দাবি, চিনের এই পদক্ষেপ সামরিক আগ্রাসনের থেকেও ভয়াবহ হতে পারে, যা ভারতের অখণ্ডতা এবং নিরাপত্তার পক্ষে মারাত্মক হুমকি।

চিন ব্রহ্মপুত্র নদের (তিব্বতে যার নাম ইয়ারলুং সাংপো) উপর যে বাঁধ গড়ে তুলছে, তা বিশ্বে সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হতে চলেছে। তবে চিন এখনও পর্যন্ত কোনও আন্তর্জাতিক জলবণ্টন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি। ফলে এই প্রকল্পের কোনও বৈশ্বিক নজরদারির সুযোগ নেই।

পেমা খাণ্ডু পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন,“ওরা যা খুশি করতে পারে। কোনও নিয়মের তোয়াক্কা করে না। আজ যদি তারা আচমকা জল ছেড়ে দেয়, তাহলে সিয়াং নদী ভয়াবহ বন্যায় ভেসে যেতে পারে। আবার ইচ্ছা করলেই পুরো জল নিজেদের দখলে রেখে অরুণাচলের কৃষি, পরিবেশ এবং জীবনের উপর বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে। এটা জলের অস্ত্র, একপ্রকার ‘ওয়াটার বোমা’।”

বাঁধের কারণে অঞ্চলটিতে ভূতাত্ত্বিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন খাণ্ডু। তাঁর মতে, এত বড় পরিকাঠামো নির্মাণ করলে অরুণাচলে ভূমিকম্প এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়বে।“আমাদের অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়ে যেতে পারে,” বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

চিনের এই জল-কৌশলের মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন খাণ্ডু। তাঁর পরামর্শ,“ভারতও যেন ব্রহ্মপুত্রের উপর পালটা বাঁধ নির্মাণ করে। অরুণাচল সরকার ইতিমধ্যেই সেই বিষয়ে আলোচনার সূচনা করেছে।”

চিনের এই প্রকল্পে প্রায় ১৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে বলে অনুমান। কাজ চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। এই ব্যয়ের অঙ্ক থেকেই বোঝা যায়, কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়—এ প্রকল্পের পিছনে থাকতে পারে ভিন্ন অভিসন্ধিও।

ভারত-চিন সম্পর্ক নতুন করে উত্তপ্ত হতে পারে এই বাঁধকে ঘিরে। আন্তর্জাতিক মহলে বারবার আলোচনার পরও চিন আন্তর্জাতিক জলচুক্তিতে সই করেনি। ফলে ব্রহ্মপুত্রের উৎসভূমিতে বাঁধ তৈরি করে তারা একতরফা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। এই পরিস্থিতিতে ভারতের উচিত কূটনৈতিক স্তরে কড়া বার্তা দেওয়া এবং ভবিষ্যতের জন্য কৌশলগত প্রস্তুতি নেওয়া।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *