খড়্গপুরে তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে ‘দাদাগিরি’র অভিযোগ, মারধরের শিকার বাম নেতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ

খড়্গপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে এক প্রাক্তন বাম নেতার উপর নারকীয় হামলা এবং মুখে কালি লেপে দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত, তৃণমূল নেত্রী বেবি কোলে ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, ৬৬ বছর বয়সী প্রবীণ সিপিএম নেতা অনিল দাসকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করা হচ্ছে। এই নজিরবিহীন ‘দাদাগিরি’র বিচার চেয়ে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন আক্রান্ত অনিল দাস।

ঘটনার সূত্রপাত হয় খড়্গপুরের খরিদা মোড়ের কাছে। অনিল দাস, যিনি বর্তমানে একটি বামপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, স্কুটিতে করে যাচ্ছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় তৃণমূল নেত্রী বেবি কোলে ও তাঁর দলবল তাঁকে পথ আটকান এবং প্রকাশ্য রাস্তায় ফেলে মারধর শুরু করেন। এমনকি তাঁর মুখে কালি লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ঘটনার ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে এই নৃশংস দৃশ্য স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, যা দেখে স্তম্ভিত গোটা রাজ্য।

প্রাণ বাঁচাতে মারধরের শিকার অনিল দাস পাশের একটি রঙের দোকানে আশ্রয় নেন। কিন্তু অভিযোগ, তৃণমূল নেত্রী বেবি কোলে ও তাঁর অনুগামীরা দোকানে ঢুকেও তাঁকে টেনে বাইরে বের করার চেষ্টা করেন। মারধরের পাশাপাশি, তাঁর টাকা ও মোবাইল ছিনতাইয়ের চেষ্টারও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় দোকানদারদের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত অনিল দাসকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

আক্রান্ত অনিল দাস জানিয়েছেন, খড়্গপুরের একটি পরিবারকে তৃণমূল নেত্রী বেবি কোলে ও তাঁর দলবল দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচার করছিল। সেই নির্যাতিত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কারণেই তাঁর উপর এই হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে রাজ্যে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমাতে কীভাবে চরম হিংসার আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে।

প্রকাশ্য দিবালোকে একজন প্রবীণ রাজনৈতিক কর্মীর উপর এমন বর্বরোচিত হামলা এবং তার ভাইরাল ভিডিও রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এই ঘটনা গণতন্ত্র এবং বাকস্বাধীনতার উপর আঘাত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। হাইকোর্টে এই মামলার শুনানি শুরু হলে এই ঘটনার পেছনে থাকা প্রকৃত কারণ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেদিকেই এখন সকলের নজর।