বঙ্গ বিজেপিতে নতুন জুটি, শমীক ভট্টাচার্যকে দায়িত্ব বুঝিয়ে শুভেন্দুর ‘ত্রিশূল’ আক্রমণ তৃণমূল-বামকে

রাজ্য রাজনীতির টানটান উত্তেজনার মধ্যেই বঙ্গ বিজেপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো নতুন অধ্যায়। আজ এক বর্ণাঢ্য সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দলের রাজ্য সভাপতির গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করলেন শমীক ভট্টাচার্য। আর এই মঞ্চ থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের পাশাপাশি বামফ্রন্টকেও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
সায়েন্স সিটির জমকালো মঞ্চে বিজেপির রাজ্য সভাপতির ব্যাটন তুলে দেওয়া হলো অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শমীক ভট্টাচার্যের হাতে। এই রদবদলকে ঘিরে দলের অন্দরে এবং বাইরে ব্যাপক কৌতূহল ছিল। শমীক ভট্টাচার্যের নিপাট এবং বুদ্ধিদীপ্ত রাজনৈতিক পরিচিতি রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে মনে করছে দলের একাংশ।
তবে, আজকের অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নতুন সভাপতির সম্বর্ধনা মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে তিনি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আবারও আক্রমণ শানালেন। তাঁর বক্তব্যে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং একনায়কতন্ত্রের অভিযোগ বারবার উঠে আসে।
শুধু তৃণমূল নয়, এদিন শুভেন্দু অধিকারী তাঁর আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করেন বামফ্রন্টকেও। নাম না করে তিনি বামেদের ‘ভোট কাটুয়ার দল’ হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং অভিযোগ করেন যে, তারা পরোক্ষভাবে তৃণমূলকে সাহায্য করছে। শুভেন্দুর এই ‘ত্রিশূল’ আক্রমণের পর রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল ও বামেদের প্রতিক্রিয়া কী হয়, তা এখন দেখার বিষয়।
শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বক্তৃতায় শমীক ভট্টাচার্যকে নতুন দায়িত্বের জন্য অভিনন্দন জানান এবং তাঁর নেতৃত্বে রাজ্য বিজেপি আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তাঁর বার্তা ছিল স্পষ্ট – শমীক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে বিজেপি আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বদ্ধপরিকর।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শমীক ভট্টাচার্য এবং শুভেন্দু অধিকারীর এই নতুন জুটি আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে। একদিকে শমীক ভট্টাচার্যের সংযত এবং বুদ্ধিভিত্তিক রাজনৈতিক চাল, অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীর আক্রমণাত্মক এবং জনমুখী বক্তৃতা – এই দুইয়ের মিশেল বিজেপিকে রাজ্যের মানুষের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরতে সাহায্য করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই নতুন চালিকা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি আগামী বিধানসভা নির্বাচনে কতটা সাফল্য অর্জন করতে পারে।