ব্যারাকপুরের সারদা হাসপাতালে বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচীর তাণ্ডব, চিকিৎসকদের হুমকি-মারধর, পুলিশের মামলা রুজু

ব্যারাকপুরের সারদা মাল্টিসুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ঢুকে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের শাসানি এবং মারধরের অভিযোগে বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচীর বিরুদ্ধে মোহনপুর থানায় মামলা দায়ের করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার ৬৫ বছর বয়সী এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ ওঠার পর কৌস্তভ বাগচীর এই তাণ্ডবের ভিডিও ভাইরাল হয়। পুলিশ গতকালই মারধর, হুমকি এবং চিকিৎসকদের উপর হামলার ধারায় মামলা রুজু করেছে।

হাসপাতালে ধুন্ধুমার: ভাইরাল ভিডিওতে ধরা পড়ল শাসানি

ঘটনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার, যখন সারদা মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতালে এক বৃদ্ধ রোগীর মৃত্যু হয়। মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তোলা হয়। এরপরই বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচীকে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি চরম আক্রমণাত্মক আচরণ করতে দেখা যায়। একটি ভাইরাল ভিডিওতে ধরা পড়েছে, কীভাবে তিনি চিকিৎসকদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করছেন এবং আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন।

সাংসদ পার্থ ভৌমিকের ক্ষোভ, কৌস্তভের পাল্টা যুক্তি

এই ঘটনার খবর পেয়ে গতকাল রাতে ব্যারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক হাসপাতালে ছুটে যান। তিনি অভিযোগ করেন যে, মৃতের পরিবার কোনো অভিযোগ না করলেও একজন “বহিরাগত” হাসপাতালে ঢুকে চিকিৎসকদের সাথে দুর্ব্যবহার করেছেন। নাম না করে কৌস্তভ বাগচীকে নিশানা করে পার্থ ভৌমিক বলেন, “উত্তরপ্রদেশের গোবলীয় সংস্কৃতি এদের মধ্যে ঢুকেছে।”

পাল্টা আক্রমণে কৌস্তভ বাগচী দাবি করেছেন, “পরিবারকে ভুল বুঝিয়ে অভিযোগ প্রত্যাহার করানো হয়েছে। জনরোষ তৈরি হয়েছিল, আমি গেছিলাম বলে ভাঙচুর হয়নি।”

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক:

হাসপাতালের চিকিৎসক অমৃত ঘোষের অভিযোগ, “কৌস্তভ বাগচী হাসপাতালে ঢুকে স্বাস্থ্যকর্মী এবং নিরাপত্তারক্ষীকে মারধর করেছেন। আমরা থানায় জানিয়েছি, যদিও পুলিশ জানিয়েছে পরিবার কোনো অভিযোগ করেনি।” তিনি আরও জানান, এই ঘটনার পর চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা চরম আতঙ্কিত।

পুলিশ এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। একজন রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এবং হাসপাতাল চত্বরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঘটনা চিকিৎসা পরিষেবা এবং হাসপাতাল কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তদন্তের পরবর্তী ধাপে কী বেরিয়ে আসে, সেদিকেই নজর রাখছে ওয়াকিবহাল মহল।