OMG! বিয়ের জন্য ছেলে থেকে মেয়ে হয়েছিলেন যুবক, ‘ধর্ষণ’ করে পালিয়ে গেলো প্রেমিক

দীর্ঘ ১০ বছরের সম্পর্ক। তারপর প্রেমিকের চাপেই পুরুষ থেকে নারী রূপে রূপান্তরিত হলেন এক ২৫ বছর বয়সী তরুণী। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর সেই প্রেমিকই তাঁকে বিয়ে করতে অস্বীকার করেছেন বলে অভিযোগ। এই প্রতারণা এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে মধ্যপ্রদেশের ওই রূপান্তরিত নারী এখন পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই ঘটনা রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং লিঙ্গপরিচয় ও সম্মতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রশ্নগুলিকে আবারও সামনে এনেছে।

ওবেদুল্লাগঞ্জের বাসিন্দা ওই তরুণী অভিযোগ করেছেন, প্রায় এক দশক আগে নর্মদাপুরম জেলায় তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে পরিচয় হয়। তখন তাঁরা দু’জনেই পুরুষ ছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে একটি সমকামী সম্পর্কও গড়ে ওঠে। কিন্তু সম্পর্কের এক পর্যায়ে প্রেমিক ওই তরুণীকে লিঙ্গ পরিবর্তনের জন্য মানসিকভাবে চাপ দিতে শুরু করেন। প্রেমিকের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে তিনি ইন্দোরের একটি হাসপাতালে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নারী রূপ ধারণ করেন।

তবে, অস্ত্রোপচারের কয়েক মাস পর থেকেই প্রেমিকের আচরণে পরিবর্তন আসে। তিনি ওই তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ এড়িয়ে চলতে শুরু করেন এবং পরবর্তীতে স্পষ্টভাবে তাঁকে বিয়ে করতে অস্বীকার করেন। প্রেমিকের এই প্রতারণায় মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন ওই তরুণী। অবশেষে, সুবিচারের আশায় তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন।

ভোপালের গান্ধীনগর থানায় এই অভিযোগের ভিত্তিতে একটি ‘জিরো এফআইআর’ (Zero FIR) রুজু করা হয়েছে। যেহেতু অভিযুক্তের বাসস্থান নর্মদাপুরম জেলায়, তাই মামলাটি বিস্তারিত তদন্তের জন্য সেখানে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং শারীরিক নির্যাতনের ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গান্ধীনগর থানার ইনচার্জ ব্রিজেন্দ্র মেরস্কোল পিটিআই-কে জানান, অভিযোগকারীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং তাতে তাঁর লিঙ্গ পরিবর্তনের তথ্যও নিশ্চিত হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে যে, অভিযুক্ত কেবল প্রতিশ্রুতির ভঙ্গই করেননি, বরং রূপান্তরের আগে এবং পরেও ওই তরুণীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে শোষণ করেছেন।

এছাড়াও অভিযোগকারী দাবি করেছেন যে, অভিযুক্ত গুপ্তচরবৃত্তির সঙ্গেও যুক্ত। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে।

এই ঘটনাটি শুধুমাত্র একটি প্রেমঘটিত প্রতারণা নয়, বরং লিঙ্গ পরিচয়, সম্মতি এবং রূপান্তরিত ব্যক্তিদের অধিকারের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলিকে নতুন করে সামনে এনেছে। প্রশাসন এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলি এই মামলার পরবর্তী অগ্রগতির দিকে সতর্ক নজর রাখছে।