দিল্লির এইমসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ট্রান্সফর্মারে আগুন, বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব

বৃহস্পতিবার দুপুরে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS) ট্রমা সেন্টারের বাইরে একটি ৩৩,০০০ ভোল্টের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মারে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়া আগুন এবং ঘন ধোঁয়ায় আতঙ্ক ছড়ালেও, দমকল বিভাগের তৎপরতায় মাত্র ৩০-৩৫ মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

দুপুর ৩টা নাগাদ আগুনের খবর পেয়েই দ্রুত আটটি দমকল ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়, যা আশপাশের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে। তবে দমকল কর্মীদের পেশাদারিত্ব ও দ্রুত পদক্ষেপের ফলে আগুন হাসপাতালের মূল ভবনে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি।

দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মনোজ আহলাওয়াত জানান, পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। কারণ, যে ট্রান্সফর্মারে আগুন লেগেছিল, তার পাশেই আরও দুটি ৩৩,০০০ ভোল্টের ট্রান্সফর্মার ছিল এবং মাত্র পাঁচ মিটার দূরেই ছিল চিকিৎসকদের হোস্টেল। তিনি বলেন, “সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হওয়ায় বড় বিপদ এড়ানো গেছে।”

এই অগ্নিকাণ্ডের সময় ট্রমা সেন্টারে শত শত রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। কিন্তু AIIMS কর্তৃপক্ষ এবং দমকল বিভাগের মধ্যে চমৎকার সমন্বয়ের কারণে রোগীদের সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন পড়েনি এবং চিকিৎসা পরিষেবায় কোনো বড় ব্যাঘাত ঘটেনি।

সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড এবং নিরাপত্তা প্রশ্ন:

এই ঘটনার মাত্র তিন দিন আগেই জাফরাবাদের চৌহান বাঙ্গরের নূরানি মার্কেটের একটি কাপড়ের দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। সেখানে আগুন দ্রুত চারতলা বিল্ডিং এবং পাশের দুটি বাড়িতে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই ঘটনায় প্রায় ৩০ জন বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হলেও, দমকল বাহিনীকে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ও তারের জটের কারণে কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়েছিল। ফায়ার ইঞ্জিন ভিতরে ঢুকতে না পারায়, ব্রহ্মপুরী রোডে গাড়ি দাঁড় করিয়ে ১০০ মিটার পাইপের সাহায্যে জল সরবরাহ করে ছয় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

এই দুটি ঘটনাই রাজধানী দিল্লির বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা এবং অগ্নি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনবহুল এলাকা, হাসপাতাল এবং বাজার অঞ্চলে ট্রান্সফর্মার ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিয়মিত বৈদ্যুতিক পরিদর্শন অত্যন্ত জরুরি। তাঁদের মতে, সামান্য অবহেলাও বড়সড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে। শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।