সরকারি অধ্যক্ষকে বেধড়ক মারধর, তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, চাকরি ছাড়ার হুমকি আক্রান্তের

নদিয়ার চাপড়ার গভর্নমেন্ট জেনারেল ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শুভাশিস পাণ্ডেকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল এক তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন আক্রান্ত অধ্যক্ষ। এমনকি আতঙ্কে তিনি সরকারি চাকরি ছাড়ার কথাও ভাবছেন বলে জানিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে গতকাল, বুধবার (২ জুলাই)।

ঘটনার সূত্রপাত:

আক্রান্ত অধ্যক্ষ শুভাশিস পাণ্ডে ২০২১ সাল থেকে চাপড়া কলেজে কর্মরত। তিনি মূলত কীটপতঙ্গ সংরক্ষণ নিয়ে গবেষণা করেন এবং পরিবেশকর্মী হিসেবেও দেশজুড়ে পরিচিত। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে তিনি চাপড়া এলাকায় কীটপতঙ্গের অবলুপ্তি রোধে কাজ করে আসছেন।

চাপড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে যে, বিভিন্ন সরকারি স্থানে ঘন জঙ্গল পরিষ্কার করে অবৈধভাবে জবরদখল করা হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে কীটপতঙ্গের ওপর। এই বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে শুভাশিস পাণ্ডে বিভিন্ন জায়গায় সচেতনতামূলক বোর্ড লাগিয়েছিলেন। কিন্তু দেখা যায়, সেই বোর্ডগুলো ভেঙে পড়ে আছে।

গতকাল (বুধবার), শুভাশিস পাণ্ডে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে নিয়ে এমনই একটি ভাঙা বোর্ড মেরামত করতে গিয়েছিলেন। সেখানেই অভিযুক্ত তৃণমূল কর্মী অজয় ঘোষ হঠাৎ তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, কার অনুমতি নিয়ে তিনি এই বোর্ড লাগিয়েছেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। অভিযোগ, এরপরেই অজয় ঘোষ অতর্কিতে শুভাশিস পাণ্ডেকে বেধড়ক মারধর করেন। ঘটনার পর আহত অধ্যক্ষকে চাপড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসার জন্য।

অধ্যক্ষের প্রতিক্রিয়া ও পুলিশের পদক্ষেপ:

শুভাশিস পাণ্ডে অজয় ঘোষের বিরুদ্ধে চাপড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মারধরের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি কার্যত কেঁদে ফেলেন। চরম আতঙ্ক প্রকাশ করে অধ্যক্ষ বলেন, “আমাকে যেভাবে মারধর করা হয়েছে, আমি এই কলেজে কিছুতেই আর কাজ করতে চাই না। হয় দফতর আমাকে অন্য কলেজে বদলি করে দিক, না-হলে আমি নিজেই সরকারি চাকরি ছেড়ে দেব।”

অধ্যক্ষের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশের ডিএসপি শিল্পী পাল জানিয়েছেন, “ইতিমধ্যেই চাপড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।” যদিও এই ঘটনায় অভিযুক্ত অজয় ঘোষ এখনও অধরা।

রাজনৈতিক চাপানউতোর:

সূত্রের খবর, অভিযুক্ত তৃণমূল কর্মী অজয় ঘোষের ভাই চাপড়া হাটখোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য। এ বিষয়ে চাপড়ার তৃণমূল বিধায়ক রুকবানুর রহমান বলেন, “বিষয়টি নিয়ে দলগতভাবে আমরা তদন্ত করছি। তবে প্রাথমিকভাবে যেটা জানা যাচ্ছে, অভিযুক্ত আমাদের দলের সক্রিয় কর্মী নন।”

অন্যদিকে, এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে বিরোধী সিপিএম। সিপিএম নেতা ইমরান মণ্ডল বলেন, “এরা তৃণমূলের রত্ন। এরাই উচ্চস্তরের নেতৃত্বের কাছ থেকে শিখেছে কীভাবে পুলিশ এবং শিক্ষকদের পেটাতে হয়। আমাদের কাছে যতদূর খবর আছে, এই অভিযুক্ত এলাকায় জোরপূর্বক সরকারি জমি দখল করার চেষ্টা করছে। এলাকার মানুষও এই তৃণমূল কর্মীর উপর ক্ষিপ্ত।”

এই ঘটনায় রাজ্যের শিক্ষক এবং শিক্ষাবিদ মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে, এবং অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি উঠেছে।