রেকর্ড ধান উৎপাদনে বাংলা, কৃষকদের কুর্ণিশ মুখ্যমন্ত্রীর

প্রতিকূলতা সত্ত্বেও কৃষি ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করল পশ্চিমবঙ্গ। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে রাজ্যে ধান উৎপাদনে সর্বকালীন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে, যা রাজ্যের কৃষি অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ (বৃহস্পতিবার) তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে এই ঐতিহাসিক সাফল্যের কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছরে রাজ্যের কৃষকরা মোট ২৫৬.৫৩ লক্ষ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন করেছেন, যা অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বার্তায় এই সাফল্যের পেছনে রাজ্যের কৃষক ও ভাগচাষিদের অদম্য মনোবল এবং রাজ্য সরকারের কৃষিবান্ধব নীতিগুলির সম্মিলিত ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বিপর্যয় সত্ত্বেও আমাদের কৃষকদের অদম্য মনোবল এবং কৃষিবান্ধব নীতির ফলেই এই ঐতিহাসিক সাফল্য সম্ভব হয়েছে।” বিশেষভাবে উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো, ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ এবং রাজ্যের একাধিক জেলায় ব্যাপক বন্যা পরিস্থিতির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও কৃষকরা যে নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের পরিচয় দিয়েছেন, তা সত্যিই অতুলনীয়।
সরকারের সহায়ক নীতি:
মুখ্যমন্ত্রী এই বিপুল উৎপাদনের পেছনে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প ও নীতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘কৃষক বন্ধু’, ‘বাংলা শস্যবিমা’, চাষে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার, খাজনা মকুব, ‘সুফল বাংলা’র মতো উদ্যোগ এবং নিশ্চিত ক্রয় প্রক্রিয়া কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তা প্রদান ও উৎপাদনে বিশেষভাবে সহায়তা করেছে। এই সমস্ত প্রকল্প কৃষকদের মনোবল বাড়িয়ে উৎপাদনের ক্ষেত্রে এক নতুন উদ্দীপনা জুগিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
কৃষিক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন:
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান যে, ২০১১ সালে তাঁর সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজ্যের কৃষিক্ষেত্রে এক বিরাট ও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। শুধু ধান নয়, রাজ্যে ভুট্টা, ডাল, তেলবীজ এবং সুগন্ধি চালের উৎপাদনেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে। তিনি রাজ্যের কৃষক, ভাগচাষি, বর্গাচাষি, কৃষি শ্রমিক এবং কৃষিক্ষেত্রে যুক্ত সমস্ত কর্মীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “তাঁরা আমাদের দেশের মেরুদণ্ড। তাঁদের অবদান অপরিসীম ও গভীরভাবে শ্রদ্ধার যোগ্য।”
এই রেকর্ড পরিমাণ ধান উৎপাদনের ঘোষণা আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে শাসকদলের জন্য এক বড় ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী এই ঘোষণার মাধ্যমে রাজ্যের কৃষিক্ষেত্রের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতি পূরণে বদ্ধপরিকর থাকার বার্তা দিয়েছেন। এই সাফল্য রাজ্যের কৃষি অর্থনীতিকে আরও মজবুত করবে এবং কৃষকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।