চিকিৎসক নিগ্রহের অভিযোগ, বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচীর বিরুদ্ধে মামলা, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব

হাসপাতাল চত্বরে ঢুকে চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের হেনস্থার অভিযোগে অবশেষে আইনি জালে বিজেপি নেতা ও আইনজীবী কৌস্তভ বাগচী। ব্যারাকপুরের মোহনপুর থানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে। আগামীকাল, ৩ জুলাই সকাল ১১টায় তাঁকে মোহনপুর থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে।

অভিযোগ ও মামলা:

সূত্রের খবর, কৌস্তভ বাগচীর বিরুদ্ধে মারধর, হুমকি, গালিগালাজ, এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকদের নিগ্রহ-সহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় ব্যারাকপুরের সারদা মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতালের পক্ষ থেকে পুলিশে অভিযোগ জানানো হয়।

কৌস্তভের পাল্টা দাবি:

যদিও এই অভিযোগকে “উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” এবং “শাসকদলের দ্বারা প্রভাবিত” বলে দাবি করেছেন কৌস্তভ বাগচী। তাঁর মতে, এটি তাঁকে ফাঁসানোর একটি চক্রান্ত। তিনি ঘটনার দিন হাসপাতালে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলেও দাবি করেন।

চিকিৎসক সমাজের ক্ষোভ:

ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে চিকিৎসক সমাজ। বৃহস্পতিবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রগ্রেসিভ হেলথ অ্যাসোসিয়েশনের একটি প্রতিনিধি দল ব্যারাকপুরের সারদা মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতালে গিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। চিকিৎসক বিবর্তন সাহা, সুমিত সাহা, রাজেশ কর ও ডোনা সাহা-সহ চার সদস্যের এই প্রতিনিধি দল ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ সংগ্রহ করেন।

জেলা প্রগ্রেসিভ হেলথ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য তথা বিশিষ্ট চিকিৎসক বিবর্তন সাহা বলেন, “যে ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত অনভিপ্রেত। ৩০ বছরে এই ধরনের ঘটনা এই হাসপাতালে ঘটেনি। যিনি মারা গেছেন, তাঁকে বাঁচানোর সব চেষ্টা করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও একজন ব্যক্তি যিনি চিকিৎসা পেশার সঙ্গে যুক্ত নন, তিনি হাসপাতালে এসে যেভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দিয়েছেন, তা নিন্দনীয়। এটা একরকম থ্রেট কালচার, যা চিকিৎসক সমাজের কাছে নেগেটিভ বার্তা দেবে। আমরা আশা করি পুলিশ প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ করবে।”

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:

হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিশ্বজিৎ রায় জানান, চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি ছিল না। তিনি বলেন, “আমাদের তরফে রোগীকে বাঁচাতে কোনো খামতি রাখা হয়নি। ঘটনার সময় ১০০-র বেশি মানুষ জড়ো হয়ে দাদাগিরি করছিল, যার ফলে আমরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়েছিলাম। ৩০ বছর ধরে আমরা পরিষেবা দিচ্ছি, কিন্তু এমন পরিস্থিতি আগে কখনো হয়নি।” তিনি আরও যোগ করেন, যদি কোনো অভিযোগ থাকত, তবে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেত, এমন পরিস্থিতি তৈরি না হলেই ভালো হতো।

পুলিশের পদক্ষেপ:

ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়েছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

ঘটনার সূত্রপাত:

প্রসঙ্গত, গত ১ জুলাই চিকিৎসক দিবসে এক বিজেপি কর্মীর বাবার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যারাকপুরের মোহনপুর সংলগ্ন ওই বেসরকারি হাসপাতালে উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, এর পরেই বিজেপি নেতা ও আইনজীবী কৌস্তভ বাগচী হাসপাতালে ঢুকে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে অভব্য আচরণ করেন এবং আঙুল উঁচিয়ে শাসান। এই ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়।

এর আগে ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরামও কৌস্তভের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বাস্থ্যসচিবকে চিঠি দিয়েছিল। এবার প্রগ্রেসিভ হেলথ অ্যাসোসিয়েশনও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাশে দাঁড়ানোয় এই ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।