কসবা কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড়! নির্যাতিতা ছাড়াও ইউনিয়ন রুমে ছিলেন আরও এক ছাত্রী? নতুন সাক্ষীর খোঁজে পুলিশ

দক্ষিণ কলকাতা আইন কলেজে ছাত্রীর গণধর্ষণের ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই নতুন নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। এই মামলায় এখন পর্যন্ত সবথেকে বিস্ফোরক দাবিটি এসেছে ধৃত নিরাপত্তারক্ষী পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায়ের জবানবন্দি থেকে। পুলিশের জেরায় তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার সময় অভিযুক্ত মনোজিত, জায়েব এবং প্রমিত তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়েছিল।

মোবাইল কেড়ে নেওয়ার কারণ?

পুলিশকে দেওয়া বয়ানে পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তিনি যাতে ঘটনার বিষয়ে বাইরে কাউকে ফোন করে জানাতে না পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই অভিযুক্তরা তাঁর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এই তথ্য মামলার তদন্তে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এর থেকে বোঝা যায়, অভিযুক্তরা সচেতনভাবে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেছিল এবং কোনো প্রকার সাহায্য চাওয়া থেকে নিরাপত্তারক্ষীকে বিরত রাখতে চেয়েছিল।

আরেক ছাত্রীর উপস্থিতি?

ধৃত নিরাপত্তারক্ষীর জবানবন্দিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার দিন রাতের শিফটে তিনি দায়িত্বে ছিলেন। তবে, ওই ছাত্রীকে নির্যাতনের আগে সকাল থেকেই কলেজের ইউনিয়ন রুমে আরও এক ছাত্রী উপস্থিত ছিলেন। রাত প্রায় সাড়ে আটটা নাগাদ সেই ছাত্রী কলেজ থেকে বেরিয়ে যান। সূত্রের খবর, পুলিশ এই ছাত্রীকেও ডেকে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। তাঁর বয়ান এই মামলার তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

পুলিশের তদন্তের গতিবিধি:

এদিকে, পুলিশ ঘটনার দিন বিকেল চারটের পর থেকে কলেজে উপস্থিত থাকা প্রায় ১৭ জনের একটি তালিকা তৈরি করেছে। এঁদের মধ্যে দুজনকে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বাকি ১৫ জনকে আজ জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। নিরাপত্তারক্ষীর এই নতুন দাবি এবং আরেক ছাত্রীর উপস্থিতির বিষয়টি পুলিশকে তদন্তে নতুন দিশা দেখাচ্ছে। এই তথ্যগুলো মামলার গভীরে পৌঁছাতে এবং আরও প্রমাণ সংগ্রহে পুলিশকে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।