“ধর্মীয় অবমাননা থেকে উস্কানিমূলক পোস্ট”-প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতার র বিরুদ্ধে নতুন FIR

রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের পরেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি অভিযোগের তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত করা, ধর্মীয় অবমাননা এবং উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে রাজ্যের বিভিন্ন থানায় একের পর এক FIR দায়ের করা হচ্ছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ: সাম্প্রতিকতম ঘটনায়, বিজেপির নেত্রী তথা আইনজীবী নাজিয়া এলাহি খান প্রগতি ময়দান থানায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক মন্তব্য এবং কোরানের নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ দায়ের করেছেন। একইসঙ্গে কসবার বিধায়ক জাভেদ খানের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগেও, শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় আইনজীবী রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন যে, গত বছর এক জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে ‘গন্দা’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন, যা ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়: সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সম্প্রতি ভবানীপুরের বাসিন্দা অর্ণবকান্তি দাস ভবানীপুর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগকারীর দাবি, ২ মে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘গুজরাতি গ্যাং’ সংক্রান্ত যে পোস্ট অভিষেক করেছিলেন, তা রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে FIR দায়ের করা হয়েছে।

এর আগেও বিভিন্ন সময়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হুমকির অভিযোগে অভিষেকের নামে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় FIR হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের অন্তত ৬টি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ আগেই মন্তব্য করেছিলেন যে, প্ররোচনামূলক মন্তব্যের জন্য মমতার বিরুদ্ধে FIR দায়ের করা আবশ্যক। এদিকে, আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই মুহূর্তে রাস্তায় নেমে অবস্থান বিক্ষোভের কর্মসূচি এবং কবিতা লেখার ঘটনাও রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আইনজীবীদের মতে, এই অভিযোগগুলি প্রমাণিত হলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও সাংসদকে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর একের পর এক এই ধরণের অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।