“২.২ লক্ষ কোটি টাকা পড়ে রয়েছে দাবিহীন!”-হারানো সম্পদ উদ্ধারে নতুন পোর্টাল আনল কেন্দ্র

বহু বছর ধরে পড়ে থাকা নিজের বা পরিবারের দাবিহীন আর্থিক সম্পদের খোঁজ পাওয়া এবার আরও সহজ হলো। আমজনতার সুবিধার কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক একটি নতুন অনলাইন পোর্টাল www.unclaimedassetsportal.in-এর উদ্বোধন করল। শুক্রবার পিএসবি অ্যালায়েন্স-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই পোর্টালটি চালু করেন আর্থিক পরিষেবা দপ্তরের সচিব এম নাগারাজু।
কেন এই নতুন পোর্টাল? এতদিন ব্যাঙ্ক, ইনশিওরেন্স সংস্থা, শেয়ার বাজার বা মিউচুয়াল ফান্ডের দাবিহীন সম্পদের খোঁজ পেতে বিভিন্ন সংস্থার পোর্টালে আলাদা আলাদা করে ঘুরতে হতো। নতুন এই পোর্টালে এক জায়গা থেকেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, বিমা পলিসি, শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ডের দাবিহীন অর্থের তথ্য অনুসন্ধান করা যাবে। অ্যাকাউন্টধারীর মৃত্যু, উত্তরাধিকারীদের কাছে তথ্যের অভাব বা নথিপত্র হারিয়ে যাওয়ার মতো সমস্যার কারণে যে বিপুল অর্থ বছরের পর বছর পড়ে থাকে, তা উদ্ধারে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
কতটা বিশাল এই দাবিহীন সম্পদের ভাণ্ডার? ‘১ ফাইন্যান্স রিসার্চ’ (1 Finance Research)-এর সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার সংক্রান্ত সংস্থাগুলির কাছে প্রায় ২.২ লক্ষ কোটি টাকার দাবিহীন সম্পদ পড়ে রয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের মার্চ মাসে যেখানে ব্যাঙ্কগুলির ‘ডিপোজিটর এডুকেশন অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস’ (DEA) তহবিলে ৭,৮৭৫ কোটি টাকা ছিল, তা ২০২৫ সালের ডিসেম্বর নাগাদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭,৫৪৫ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, এক দশকে এই অঙ্ক প্রায় ৩৪ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
পোর্টালের সুবিধা:
-
সহজ অনুসন্ধান: কোনো জটিল প্রক্রিয়া ছাড়াই নিজের আর্থিক সম্পদের বর্তমান অবস্থা যাচাই করা যাবে।
-
সময় সাশ্রয়: আলাদা আলাদা সংস্থার পোর্টালে যাওয়ার বদলে কেন্দ্রীয় এই পোর্টাল থেকে সব তথ্য এককালীন পাওয়া যাবে।
-
সচেতনতা বৃদ্ধি: আর্থিক সম্পদ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে এবং সাধারণ মানুষ তাদের প্রাপ্য অধিকার বুঝে নিতে পারবেন।
কীভাবে খোঁজ করবেন? সংশ্লিষ্ট পোর্টালে গিয়ে নির্দিষ্ট তথ্য প্রদান করার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ তাদের কোনো দাবিহীন অর্থ বা সম্পদ রয়ে গিয়েছে কি না, তা যাচাই করতে পারবেন। তবে, এই সম্পদ উদ্ধারের ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত প্রমাণপত্র বা কেওয়াইসি (KYC) যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়মাবলি মেনে চলতে হবে।
কেন্দ্রের এই উদ্যোগে উত্তরাধিকারীরা যেমন তাদের প্রাপ্য সম্পদ ফিরে পাওয়ার সুযোগ পাবেন, তেমনই দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে থাকা বিপুল পরিমাণ অলস মূলধন দেশের অর্থনীতিতে পুনরায় কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।