গুণধর নেতার কীর্তি ফাঁস! এর আগেও ২ ছাত্রীকে যৌন হেনস্থা করেছে কসবা কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত

কসবার আইন কলেজে প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় যতই তদন্ত এগোচ্ছে, ততই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। মূল অভিযুক্ত কলেজের অস্থায়ী কর্মী ও বহুল পরিচিত ‘দাদা’। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ওই ব্যক্তি, আর তার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল কলেজের আরও দুই ছাত্র—যারা এই নারকীয় ঘটনায় তাকে সাহায্য করেছিল বলে অভিযোগ।
এই ঘটনায় অভিযুক্তের অতীত খতিয়ে দেখে চমকে উঠছে তদন্তকারীরা। বেশ কিছু পুরনো অভিযোগপত্র, যা থেকে জানা যাচ্ছে—এই প্রথম নয়, এর আগেও তিন জন যুবতীর শ্লীলতাহানি ও যৌন হেনস্থার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
কলেজ সূত্রে খবর, ছাত্রীদের জন্য একপ্রকার আতঙ্কের নাম ছিল ওই ‘দাদা’। নানা সময়ে ছাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, কুপ্রস্তাব এবং হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি, ২০১৮ সালে ওইসব অভিযোগের জেরে অভিযুক্তকে চার বছরের জন্য বহিষ্কার করেছিল কলেজ কর্তৃপক্ষ। সিদ্ধান্ত হয়েছিল, শুধুমাত্র পরীক্ষার সময়ই সে কলেজে প্রবেশ করতে পারবে।
কিন্তু ২০২২ সালে বহিষ্কারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২০২৩ সাল থেকে আবার স্বমহিমায় ফিরতে থাকে অভিযুক্ত। ফের উঠে আসে শ্লীলতাহানির অভিযোগ।
মূল অভিযুক্তের অপরাধজগতের ইতিহাসও কম ভয়ঙ্কর নয়। ২০১২ সালে সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজে ভর্তি হলেও, পরের বছরই কালীঘাট থানার এলাকায় এক ক্যাটারিং কর্মীর আঙুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় জড়ায় সে। এই ঘটনায় তার কলেজে ভর্তিও বাতিল হয়। এরপর প্রায় তিন বছর ওড়িশায় আত্মগোপন করে ছিল সে।
২০১৭ সালে সে ফের কলেজে ফিরে রি-অ্যাডমিশন নেয়। কিন্তু ২০১৮ সালের ১৬ মার্চ, আবারও দুই ছাত্রী তার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনে। এনআরএস হাসপাতালে মেডিক্যাল পরীক্ষা পর্যন্ত হয়। যদিও পরবর্তীতে চাপের মুখে চাপা পড়ে যায় সেই ঘটনা। অভিযুক্তের দাপাদাপি বন্ধ হয়নি তখনও।
২০২৩ সালেও একাধিক অভিযোগ ওঠে। ২৩ মার্চ ফের ছাত্রীদের উত্যক্ত করার অভিযোগ উঠে। ১ ডিসেম্বর কসবা থানা এলাকায় ছাত্রদের মারধরের ঘটনায় নাম জড়ায় তার। একই বছর ৭ সেপ্টেম্বর টালিগঞ্জ থানাতেও তার বিরুদ্ধে ছাত্র মারধরের অভিযোগ জমা পড়ে।
এত কিছু ঘটার পরেও কীভাবে এই অভিযুক্ত কলেজ চত্বরে বারবার ঢুকে পড়ল, তা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন। প্রশাসনিক উদাসীনতা, নাকি প্রভাবশালীদের মদত? তদন্ত এখন সেই দিকেই এগোচ্ছে।