স্টিয়ারিংয়ে বসে গভীর ঘুম! গাড়ি পিষে দিল ধাবায় খেতে আসা দুই পড়ুয়াকে, শোকে পরিবার

নিয়ন্ত্রণহীন স্টিয়ারিং, আর ঘুমন্ত চালকের উদাসীনতা কেড়ে নিল এক তরতাজা প্রাণ। দিল্লি-জয়পুর হাইওয়েতে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দুই আইন পড়ুয়াকে পিষে দিল দ্রুতগামী একটি গাড়ি। মর্মান্তিক এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন এক ছাত্র, এবং তাঁর সহপাঠী গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনায় গুরুগ্রামের বাসিন্দা, পেশায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত ২৪শে জুন, ভোর রাতের দিকে দিল্লি-জয়পুর হাইওয়েতে ঘটে এই বিভীষিকাময় ঘটনা। ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রাস্তার একপাশে নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন দুই আইনের পড়ুয়া হর্ষ ও মোক্ষ। আচমকাই তীব্র গতিতে ছুটে আসা একটি স্কোডা গাড়ি তাদের সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কার তীব্রতায় হর্ষ ও মোক্ষ প্রায় ১০ মিটার দূরে ছিটকে পড়েন। কিন্তু ঘাতক গাড়িটি এক মুহূর্তের জন্যও গতি না কমিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। সেখানে উপস্থিত কিছু লোক গাড়িটিকে ধাওয়া করলেও ধরতে পারেননি। আহত দুই পড়ুয়াকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে, চিকিৎসকরা হর্ষকে মৃত ঘোষণা করেন এবং মোক্ষের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আহত মোক্ষ জানিয়েছেন, সেদিন ভোর তিনটে নাগাদ তারা বাইক নিয়ে একটি ধাবায় খেতে গিয়েছিলেন। ধাবায় প্রচণ্ড ভিড় থাকায় তারা বাইরে সার্ভিস রোডে অপেক্ষা করছিলেন। ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি যে এমন ভয়াবহ বিপদ তাদের জন্য অপেক্ষা করছে।
পুলিশ দ্রুত এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ স্ক্যান করে ঘাতক গাড়ির চালককে শনাক্ত করে। ধৃত চালকের নাম মোহিত (৩১), যিনি গুরুগ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। পুলিশি জেরায় মোহিত স্বীকার করেছেন যে, সেদিন অফিস থেকে গাড়ি ড্রাইভ করে বাড়ি ফেরার সময় ক্লান্তিতে তাঁর চোখের পাতা লেগে গিয়েছিল। আর এই অনিচ্ছাকৃত ভুলই কেড়ে নিল একটি তরতাজা প্রাণ এবং অপরজনকে ঠেলে দিল জীবন-মৃত্যুর দোলনায়। এই ঘটনা আবারও সড়কে চালকদের ক্লান্তি এবং বেপরোয়া গাড়ি চালানোর বিপদ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।