মহাকাশে শুভাংশু শুক্লা, স্পেস থেকে দ্বিতীয় বার্তা! সঙ্গে নিয়েছেন এই ছোট্ট সাদা জিনিস…ভারতীয় ঐতিহ্য

৪১ বছর পর ভারতের দ্বিতীয় মহাকাশচারী হিসেবে মহাকাশে পাড়ি দিয়ে এক নতুন ইতিহাস গড়েছেন ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা। অ্যাক্সিওম-৪ মিশনের পাইলট হিসেবে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের উদ্দেশে যাত্রা শুরুর পর তিনি মহাকাশ থেকে তাঁর দ্বিতীয় ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছেন, যেখানে তিনি মহাকাশের অভিজ্ঞতাকে এক শিশুর প্রথম পদক্ষেপের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
নিজের ভিডিও বার্তায় শুভাংশু বলেন, “স্পেস থেকে নমস্কার! আমি এখানে আমার সহ-মহাকাশচারীদের সঙ্গে দারুণ রোমাঞ্চকর সফর কাটাচ্ছি।” তিনি যাত্রার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, “যখন যাত্রা শুরু হয়, হঠাৎ পিছনে একটা ধাক্কা, তারপর হঠাৎ দেখলেন আপনি শূন্যে ভাসছেন।”
#WATCH | “Namaskar from space! I am thrilled to be here with my fellow astronauts. What a ride it was,” says Indian astronaut Group Captain Subhanshu, who is piloting #AxiomMission4, as he gives details about his journey into space.
Carrying a soft toy Swan, he says, in Indian… pic.twitter.com/Z09Mkxhfdj
— ANI (@ANI) June 26, 2025
মহাকাশে ভেসে থাকার অনুভূতি নিয়ে তিনি অকপটে বলেন, “যখন প্রথম শূন্যে ঢুকি, খুব একটা ভালো লাগছিল না। বাকিরা বলছে আমি নাকি কাল থেকে প্রচুর ঘুমোচ্ছি। আমি বাচ্চার মতো শিখছি। স্পেসে কীভাবে খেতে হয়, কীভাবে হাঁটতে হয়।” তাঁর এই মন্তব্য মহাকাশের অস্বাভাবিক পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জকে সহজভাবে তুলে ধরেছে।
সঙ্গী এক ছোট্ট হাঁস:
শুভাংশু তাঁর সঙ্গে একটি ছোট্ট সাদা হাঁসের সফ্ট টয় নিয়ে গেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভারতীয় ঐতিহ্যে হাঁসকে জ্ঞানের প্রতীক হিসেবে মনে করা হয়, তাই এই সফ্ট টয়টি তাঁর মহাকাশ সফরের সঙ্গী। তিনি এই ঐতিহাসিক সফরে পাশে থাকার জন্য তাঁর পরিবার, বন্ধু-বান্ধব এবং দেশের মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
অ্যাক্সিওম-৪ মিশন:
গত ২৫ জুন ফ্লরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্পেস এক্স ড্রাগন মহাকাশযান ফ্যালকন ৯ রকেটের মাধ্যমে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয় অ্যাক্সিওম-৪ মিশন। এই মিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন প্রাক্তন নাসা মহাকাশচারী পেগি হুইটসন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন পোল্যান্ড ও হাঙ্গেরির দুই মিশন বিশেষজ্ঞ। পাইলট হিসেবে রয়েছেন ভারতের গর্ব শুভাংশু শুক্লা। এই মিশন ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ সহযোগিতা ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।