জগন্নাথের ঔষধি-মোদক চুরি যায়নি, জানালেন ওডিশার মন্ত্রী, তা হলে কোথায়? উঠছে প্রশ্ন

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা, তারপরই পুরীতে শুরু হবে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম হিন্দু রথযাত্রা উৎসব। কিন্তু এই মহোৎসবের ঠিক প্রাক্কালে শ্রীক্ষেত্র পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে এক অদ্ভুত ‘মোদক রহস্য’ নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে গেছে। স্নানযাত্রার পর জ্বর থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য প্রভু জগন্নাথ, দাদা বলভদ্র এবং বোন সুভদ্রাকে নিবেদন করা ৭০টি দশমূল মোদক (ঔষধি লাড্ডু) চুরির অভিযোগ ঘিরে শোরগোল পড়ে যায়। এই ঘটনাকে অশুভ লক্ষণ হিসেবে দেখছেন ভক্তরা, পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নামতে হয়েছে রাজ্য সরকারকে।
কী ঘটেছিল এই ‘মোদক চুরির’ ঘটনা?
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা রীতি অনুযায়ী, স্নানযাত্রার পর প্রভু জগন্নাথদেব এবং তাঁর ভাই-বোন জ্বরে আক্রান্ত হন। এই সময় তাঁরা ‘অনবসর’ বা রুদ্ধদ্বার অবস্থায় থাকেন এবং কেবল রক্ষী-পূজারীরা (বড়াগ্রাহী) তাঁদের পাহারায় থাকেন। সুস্থ হওয়ার জন্য রাজবৈদ্য (বৈদ্যসেবক) তাঁদের জন্য ‘দশমূল মোদক’ প্রস্তুত করেন। কিন্তু এই বছর, কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও নিবেদন করা মোট ৩১০টি দশমূল মোদকের মধ্যে ৭০টির কোনো খোঁজ মিলছিল না বলে অভিযোগ ওঠে।
প্রভু বলভদ্রের বড়াগ্রাহী হলধর দাস মহাপাত্র সোমবার সরাসরি ‘শ্রী জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষ’-এর কাছে এই অভিযোগ জানান। তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে, কঠোর পাহাড়ার মধ্যেও মোদকগুলো চুরি হয়ে গেছে। এই খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরীজুড়ে ভক্তদের মধ্যে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে। অনেকেই এটিকে অশুভ লক্ষণ হিসেবে দেখতে শুরু করেন। মন্দির কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করলেও, সূত্রের খবর অনুযায়ী দ্রুত তদন্ত শুরু হয়।
সরকারের হস্তক্ষেপ ও রহস্যের জট:
পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, শেষ পর্যন্ত ওড়িশা সরকার এই বিতর্কে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়। মঙ্গলবার ওডিশার আইনমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ হরিচন্দন সরকারিভাবে ঘোষণা করেন, “পুরীর জগন্নাথ মন্দির থেকে কোনো মোদক চুরি হয়নি।” তিনি জানান, এই বিষয়ে মন্দিরের সেবায়েতদের থেকে একটি অভিযোগ এসেছিল যে, ভগবানের উদ্দেশে নিবেদনের জন্য রাজবৈদ্যের পাঠানো মোদক খোয়া গেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি প্রধান প্রশাসক অরবিন্দ পাধীর সঙ্গে কথা বলেন, যিনি হরিচন্দনকে নিশ্চিত করেছেন যে, মোদক খোয়া যায়নি।
প্রশ্নের ভিড়ে রথযাত্রার প্রস্তুতি:
আইনমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও, অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। যদি মোদক চুরি না-ই হয়ে থাকে, তাহলে সেই মোদকগুলো কোথায় গেল? আর যদি মোদক যথা স্থানেই থাকে, তাহলে এমন বিভ্রান্তি তৈরি হলো কেন? এই প্রশ্নগুলো স্থানীয়দের মধ্যে এখনও চাপা গুঞ্জনের কারণ। তবে, রাত পোহালেই রথযাত্রা। তাই আপাতত এই বিতর্ক ধামাচাপা পড়ে গেছে এবং পুরীজুড়ে চলছে উৎসবের শেষবেলার প্রস্তুতি। ভক্তরা এখন মহাপ্রভুর রথযাত্রা দর্শনে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।