“৪০ বছর ধাওয়া করার পর..”-অবশেষে সিবিআই গ্রেফতার করলো ব্যাঙ্ক জালিয়াতির মূল পান্ডাকে

ন্যায়বিচারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ৪০ বছর পর অবশেষে ধরা পড়লেন ব্যাঙ্ক জালিয়াতির এক সাজাপ্রাপ্ত আসামি। ১৯৯৫ সালের একটি অর্থ জালিয়াতির মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন সতীশ কুমার আনন্দ। কিন্তু বিচারকদের চোখে ধুলো দিয়ে, একের পর এক কৌশল অবলম্বন করে তিনি দীর্ঘ চার দশক ধরে পলাতক ছিলেন। বুধবার উত্তর দিল্লির রোহিণী এলাকা থেকে ৭০ বছর বয়সী সতীশ কুমার আনন্দকে গ্রেপ্তার করেছে সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)।

সিবিআই সূত্রে খবর, ১৯৮৫ সালে ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার ৫.৬৯ লক্ষ টাকা জালিয়াতির মামলায় সতীশ কুমার আনন্দকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছিল দেরাদুনের বিশেষ আদালত। তবে, রায় ঘোষণার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। তাঁর এই ক্রমাগত অনুপস্থিতির কারণে ২০০৯ সালের ৩০শে নভেম্বর আদালত তাঁকে ‘ঘোষিত অপরাধী’ হিসেবে ঘোষণা করে।

১৯৭৭ সালে সংঘটিত হয়েছিল এই জালিয়াতির ঘটনা। অভিযোগ ওঠে, ব্যাঙ্কের তৎকালীন ব্রাঞ্চ ম্যানেজার এবং অশোক কুমার নামের আরও একজনের সঙ্গে আঁতাত করে একটি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিলেন সতীশ কুমার। তারা জাল রসিদ এবং বিল দেখিয়ে একটি বেসরকারি সংস্থাকে অবৈধভাবে ঋণ মঞ্জুর করে। এছাড়াও, পণ্য সরবরাহ ভুলভাবে দেখানো হয়েছিল, যার ফলে ব্যাঙ্কের ৫.৬৯ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয় এবং সতীশ কুমার এই আর্থিক সুবিধা পেয়েছিলেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ১৯৭৮ সালের ৫ই মে সতীশ, ব্যাঙ্ক ম্যানেজার এবং অশোক কুমারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ তদন্তের পর বিশেষ সিবিআই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।

দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে সতীশ কুমার আনন্দ নিউ দিল্লি এবং উত্তরপ্রদেশের হাপুর-সহ বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে ছিলেন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তাঁর ছেলের নামে রেজিস্টার করা একটি মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরেই অবশেষে তাঁর হদিশ মেলে এবং রোহিণী এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর সতীশ কুমার আনন্দকে দেরাদুনের বিশেষ আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। এই গ্রেপ্তারটি সিবিআইয়ের দীর্ঘ ও নিরলস প্রচেষ্টার ফল, যা প্রমাণ করে যে অপরাধীরা যতই আত্মগোপন করুক না কেন, একদিন না একদিন তাদের আইনের আওতায় আসতেই হয়।