জলঙ্গী নদী থেকে যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার, খুন না দুর্ঘটনা? পরিবারের দাবি ‘খুন’

জলঙ্গী নদী থেকে এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ফের চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে নদীয়ার চাপড়ার বড় আন্দুলিয়ায়। মৃতের নাম বিক্রম শেখ (২৮), বাড়ি বড় আন্দুলিয়া স্কুল পাড়ায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, বিক্রম মাদকাসক্ত ছিলেন এবং গতকাল রাত থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তিনি। তবে, পরিবারের দাবি, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং মাদক কারবারিরা তাঁকে খুন করে নদীতে ফেলে দিয়েছে।
নদীতে ভাসছিল দেহ, পুলিশের তৎপরতা:
আজ সকালে বড় আন্দুলিয়ার নদীপাড়ের বাসিন্দারা জলঙ্গী নদীতে বিক্রমের দেহ ভাসতে দেখেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ভিড় জমে যায় এবং চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছায় চাপড়া থানার পুলিশ। তবে, মৃতদেহটি নদীর অপর পারে, নাকাশিপাড়া থানা এলাকায় ভাসছিল। ফলে, নাকাশিপাড়া থানায় খবর দেওয়া হয়। পরবর্তীতে নাকাশিপাড়া থানার পুলিশ এসে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায়।
রহস্য ঘনীভূত: মারধরের অভিযোগ ও চিৎকার:
ঘটনার পর থেকে স্থানীয়দের মধ্যে বিভিন্ন জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, গতকাল রাতে নদীর ধারে এক যুবককে মারধর করার আওয়াজ শোনা গিয়েছিল। সেই যুবকের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে খোঁজাখুঁজি করলেও তখন কাউকে পাওয়া যায়নি। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই বিক্রমের মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় স্থানীয়দের মনে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
পরিবারের গুরুতর অভিযোগ: ‘খুন করা হয়েছে’
বিক্রম শেখের পরিবারের সদস্যরা এই মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছেন। তাঁদের স্পষ্ট অভিযোগ, বিক্রমকে খুন করে জলে ফেলে দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা মাদক কারবারিদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। তাঁদের মতে, মাদক সংক্রান্ত কোনো বিবাদের জেরেই বিক্রমকে হত্যা করা হয়েছে।
এই ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ এখন ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে, যা মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য দেবে। একইসাথে, মারধরের অভিযোগ এবং পরিবারের করা ‘হত্যার’ দাবি নিয়েও তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। বিক্রমের মৃত্যু নিছকই একটি দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনও গভীর রহস্য, সেটাই এখন স্থানীয়দের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে।