“কংগ্রেস সরকার গণতন্ত্রকে আটকে রেখেছিল”, জরুরি অবস্থার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে তোপ মোদীর

১৯৭৫ সালের ২৫ জুন দেশের ইতিহাসে এক ভয়াবহ দিন। সেই দিনই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী সারা দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন। আজ, সেই ঘটনার ৫০ বছর পূর্তি। এই উপলক্ষে একাধিকবার মুখ খুলেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সরাসরি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেছেন, “সেই সময় কংগ্রেস সরকার গণতন্ত্রকে বন্দি করে রেখেছিল।”
জরুরি অবস্থার স্মৃতিকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী মোদীর লেখা একটি স্মৃতিচারণমূলক বই ‘দ্য এমারজেন্সি ডায়েরি’ শীঘ্রই প্রকাশিত হচ্ছে। বুধবার, ২৬ জুন এই বইটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বইটির ভূমিকা লিখেছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং জরুরি অবস্থার সময়ে বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মুখ এইচ.ডি. দেবেগৌড়া।
এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ প্রধানমন্ত্রী লেখেন,“এই বইতে জরুরি অবস্থার সময়কার আমার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছি। যারা সেই অন্ধকার দিনগুলি দেখেছেন বা যাঁদের পরিবার সেই সময়ে কষ্ট ভোগ করেছে, তাঁদের নিজেদের অভিজ্ঞতা সমাজের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
তিনি আরও জানান, “সেই সময় আমি একজন তরুণ স্বয়ংসেবক ছিলাম। আরএসএসের মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলনে যুক্ত ছিলাম। নানা রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার সুযোগ হয়েছিল।”
প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, “জরুরি অবস্থার সময় কেবল সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধই হয়নি, মৌলিক অধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। বিরোধীদের কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। আদালতকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা হয়েছিল। সংবিধানের ৪২তম সংশোধনীর মাধ্যমে গণতন্ত্রের সমস্ত স্তম্ভকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল। দরিদ্র, প্রান্তিক এবং নিরীহ মানুষজনকেও টার্গেট করা হয়েছিল, তাঁদের অপমান করা হয়েছিল।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ওই সময়ের সাহসী আন্দোলনকারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিনি বলেন,“যাঁরা সেই সময় প্রতিবাদ করেছিলেন, তাঁদের একত্রিক প্রচেষ্টার ফলেই কংগ্রেস সরকার বাধ্য হয়েছিল নির্বাচন ঘোষণা করতে। সেই নির্বাচনে তারা ভয়াবহভাবে পরাজিত হয়। গণতন্ত্রের জয় হয়েছিল।”
শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ—ভারতের সংবিধানের মূল চেতনাকে সমুন্নত রেখে এক শক্তিশালী, বিকশিত, গণতান্ত্রিক ভারত গড়ে তুলব। আমাদের লক্ষ্য, সমাজের দরিদ্র, প্রান্তিক ও নিপীড়িতদের স্বপ্নপূরণ।”