প্রেমিকাকে নাইটি উপহার স্বামীর! বিয়ের ৬ মাস যেতে না যেতেই শ্বশুরবাড়িতে উদ্ধার অলঙ্কিতার ঝুলন্ত দেহ

বিয়ের মাত্র ছ’মাসের মাথায় রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হল এক গৃহবধূর। বৃহস্পতিবার হাওড়ার গোলাবাড়ি এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে অলঙ্কিতা সিনহা ওরফে মেঘা (২৪) নামে ওই বধূর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, অলঙ্কিতাকে খুন করা হয়েছে এবং স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেলুড়ের বাসিন্দা অলঙ্কিতা সিনহার সঙ্গে প্রায় ছ’মাস আগে গোলাবাড়ি এলাকার শুভম ঘোষের বিয়ে হয়। সল্টলেকের একটি আইটি সংস্থায় চাকরির সুবাদে দুজনের পরিচয় ও প্রেম হয়। এরপর দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। পরিবারের দাবি, অ্যালবামে তাদের বিয়ের ছবি এখনও টাটকা। কিন্তু বিয়ের এত দ্রুত এমন মর্মান্তিক পরিণতি হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।
অলঙ্কিতার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে তাঁর উপর অকথ্য অত্যাচার শুরু হয়। অলঙ্কিতার বাবাকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, মেয়েকে নিজের বাপের বাড়ির সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হত না, এমনকি বাবার কাছে যেতেও বারণ করা হয়েছিল। বিয়ের উপহার নিয়েও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের আপত্তি ছিল বলে অভিযোগ।
মৃতার বাবা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমার শাশুড়ি ওর উপর অত্যাচার করত। আমার মেয়েকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে দেওয়া হত না।” অলঙ্কিতার এক আত্মীয় আরও গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তিনি জানান, শুভমের অন্য এক যুবতীর সঙ্গে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। অলঙ্কিতা নাকি এই বিষয়টি জানতে পেরেছিলেন এবং বাড়িতে সে কথা জানিয়েছিলেনও। এমনকি শুভম সেই মহিলাকে নাইটি কিনে দিয়েছেন বলেও অলঙ্কিতা তাঁর পরিবারকে জানিয়েছিলেন। এই বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়শই ঝামেলা হতো বলেও অভিযোগ।
অলঙ্কিতার পরিবারের সদস্যরা মনে করছেন, এটি নিছক আত্মহত্যা নয়, বরং অলঙ্কিতাকে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় হাওড়ার গোলাবাড়ি থানায় শুভম ঘোষ ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে অলঙ্কিতার পরিবার। পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।