৬৮ ভরি সোনা, ৮০ হাজার নগদ টাকা! বিমান দুর্ঘটনাস্থল থেকে আর কী কী উদ্ধার হল? দেখেনিন

এক রোদ ঝলমলে দুপুরে মেঘে ঢাকা আকাশের নিচে নেমে এসেছিল ভয়াবহ এক নরক যন্ত্রণা। বৃহস্পতিবার আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার এআই ১৭১ বিমানটি মেঘানিনগরের বিজে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ক্যান্টিনের উপর ভেঙে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ঘটে যায় এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ, যা কেড়ে নেয় ২৭৪টি তাজা প্রাণ। নিহতদের মধ্যে ছিলেন বিমানের যাত্রী, ক্রু সদস্য, হাসপাতালের কর্মী এবং দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষ।

টাইম অফ ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্থানীয় বাসিন্দা রাজু প্যাটেল জানান, “যখন ঘটনাটি ঘটে, আমরা প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিটের দূরত্বে ছিলাম। দেখি দমকল, অ্যাম্বুল্যান্স ছুটে যাচ্ছে সেই দিকে। আমরাও দেরি করিনি। এগিয়ে যাই ঘটনাস্থলের দিকে, উদ্ধারে সাহায্য করতে। আমরা যখন পৌঁছাই সেখানে ততক্ষণে মোট ১০৮টি অ্যাম্বুল্যান্স এসে দাঁড়িয়েছে।”

জ্বালানি ভর্তি বিমানটি উড্ডয়নের মাত্র চার মিনিটের মধ্যেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। আগুন এতটাই তীব্র ছিল যে, অনেক দেহ সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়, যা চেনার উপায় ছিল না। রাজু প্যাটেল সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার সাক্ষী।

তার কথায়, “আমরা তাদের দেহগুলো বিছানার চাদর, শাড়িতে মুড়িয়ে অ্যাম্বুল্যান্সে তুলছিলাম। প্রশাসনও আমাদের থাকার অনুমতি দিয়েছিল।” এই উদ্ধারকাজ চলাকালীন রাজু এবং তার সঙ্গীরা বিমানের ধ্বংসাবশেষ থেকে যাত্রীদের স্যুটকেস ও ব্যাগ বের করে আনেন। সেখান থেকে উদ্ধার হয় ৬৮ ভরি সোনা, একাধিক পাসপোর্ট, একটি ভগবত গীতা এবং ৮০ হাজার নগদ টাকা। উদ্ধারকৃত সমস্ত মূল্যবান সামগ্রী পরবর্তীতে দায়িত্বপ্রাপ্ত থানার হাতে তুলে দেন রাজু, যা তার সততা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা যেমন অসংখ্য মানুষকে শোকস্তব্ধ করেছে, তেমনই স্থানীয়দের দ্রুত পদক্ষেপ এবং মানবিকতা দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর এক নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।