“হিন্দুদের বাড়ি-দোকান লুট, ভাঙচুর হয়েছে”-মহেশতলাকাণ্ডে বিস্ফোরক দাবি করলেন শুভেন্দু

দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলায় দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ ঘিরে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বুধবারের এই গোষ্ঠীসংঘর্ষে শুধু এলাকা উত্তপ্তই হয়নি, পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে পুলিশকর্মীরাও গুরুতর জখম হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েনের দাবি তুলেছেন এবং এ নিয়ে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় সরব হবেন বলে জানিয়েছেন।

বুধবার সন্ধ্যায় শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে ভবানী ভবনে ডিজি’র (মহাপরিচালক, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ) সঙ্গে দেখা করতে যান। তবে, ডিজি তাঁর সঙ্গে দেখা করেননি বলে শুভেন্দু দাবি করেছেন। ভবানী ভবন থেকে বেরোনোর সময় শুভেন্দু বলেন, “হিন্দুদের বাড়িতে, দোকানে লুট, ভাঙচুর চালানো হয়েছে। পুলিশ আক্রান্ত হয়েছে। বহু গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। পুলিশ ও হিন্দুদের বাঁচানোর জন্য আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হোক।”

শুভেন্দু অধিকারীর কণ্ঠে স্পষ্ট ছিল ক্ষোভ। তিনি বলেন, “আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হোক। পুলিশ ফেল, মমতা ফেল।” তিনি আরও বলেন, “জেহাদিদের সরকার চলছে। ২০২৬ সালের এই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হবেন। রাজীব কুমারকে [ডিজি] থাকতে হবে। আজকের দিনটা নোট করে রাখছি।” ভবানী ভবন চত্বরে শুভেন্দুকে ‘জয় শ্রীরাম’ এবং ‘হিন্দু বিরোধী সরকার, আর নেই দরকার’ স্লোগান দিতেও দেখা যায়।

মহেশতলার অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি:

মহেশতলায় ঠিক কী ঘটেছে? স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করে। উন্মত্ত জনতা ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। রবীন্দ্রনগর থানার সামনে বাইকে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এবং বেশ কয়েকটি গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশকর্মীরা ইটবৃষ্টির শিকার হয়ে রক্তাক্ত হয়েছেন। জনরোষ সামাল দিতে পুলিশকে রীতিমতো হিমশিম খেতে দেখা যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাল্টা কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটানো হয়।

আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন:

কয়েক দিন আগেই সংশোধিত ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদ ঘিরে মুর্শিদাবাদের কিছু এলাকায় রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল, যেখানে ৩ জনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মহেশতলায় গোষ্ঠীসংঘর্ষের ঘটনা ঘটল। এই লাগাতার ঘটনাগুলি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন তুলেছে। বিরোধী দলগুলি সরকারের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলার অবনতির অভিযোগ আনছে, যা আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে আরও উত্তাপ ছড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।