“সিঁদুর পরবেন কেন? এটা কি নারী স্বাধীনতার পক্ষে উজ্জ্বল?”- প্রশ্ন তুললেন বিকাশরঞ্জন

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামকরণ নিয়ে যখন দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে, তখনই সিঁদুর পরার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিলেন রাজ্যসভার সাংসদ ও প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। একটি ইউটিউব চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামকরণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে দেশের একটি ‘ক্ষুদ্রাংশের প্রধানমন্ত্রী’ বলেও কটাক্ষ করেছেন।

গত মাসের শুরুতে ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই অভিযানের পোশাকি নামকরণ করেছিলেন ‘অপারেশন সিঁদুর’। পহেলগাঁও হামলার যোগ্য জবাব হিসেবে ভারতীয় সেনার এই অভিযানকে প্রাথমিকভাবে বিরোধী দলগুলি সমর্থন জানালেও, পরবর্তীতে বামপন্থী দলগুলি সহ অনেকেই এই নামকরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে।

বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য তার সাক্ষাৎকারে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমার শরীরে রক্ত বইছে না, সিঁদুর বইছে। এসব বলে আবেগে শুড়শুড়ি দেওয়া যায়। কিন্তু ভারতের কত সংখ্যক মহিলা সিঁদুর দেন? আর কত সংখ্যক মহিলা সিঁদুর দেন না? ভারতের প্রধানমন্ত্রী সর্বত্র একটা ক্ষুদ্রাংশের দ্বারা চালিত হচ্ছেন। তাহলে তিনি ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী হলেন না। তিনি একটা অংশের প্রধানমন্ত্রী হলেন। এই যাঁর দৃষ্টিভঙ্গি, তিনি দেশ চালাবেন?”

এরপরই সিঁদুর পরার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিকাশবাবু বলেন, “অনেক আধুনিক মানুষই সিঁদুর পরেন না। পরবেন কেন? যদি আমরা এই সিঁদুরের পিছনের কারণটা খুঁজতে খুঁজতে যাই, তার উৎসটা কী? সেটা কি নারী স্বাধীনতার পক্ষে খুব উজ্জ্বল? এগুলো তো অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গিয়েছে না?”

বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের এই মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামকরণ এবং সিঁদুর প্রথার মতো সামাজিক রীতি নিয়ে তাঁর এই সরাসরি প্রশ্ন, বিভিন্ন মহলে আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে। এই মন্তব্য আগামী দিনে রাজনৈতিক বিতর্কে কী নতুন মাত্রা যোগ করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।