OMG! শ্রাদ্ধবাড়িতে খাওয়া নিয়ে খোঁটা, প্রতিবেশীর বেদম মারধরে মৃত্যু হলো যুবকের

শ্রাদ্ধবাড়িতে তুচ্ছ কটুক্তির জেরে বচসা। তার জেরে নির্মম মারধরে মৃত্যু হল এক যুবকের। ঘটনাটি ঘটেছে রানিগঞ্জের বক্তানগর এলাকায়। মৃত যুবকের নাম অমিত বাউরি (২৭)। অভিযোগ, ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁকে লোহার রড দিয়ে আক্রমণ করে প্রতিবেশী তিন যুবক। হাসপাতালে দু’দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে শনিবার, ৩১ মে বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর থেকে গোটা বক্তানগর এলাকা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার মহন্ত কুলির সোনটন বাউরির বাড়িতে। সেখানে তাঁর বাবার শ্রাদ্ধানুষ্ঠান চলছিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অমিত বাউরিও। অভিযোগ, সেখানেই অমিত প্রতিবেশী কমল বাউরিকে কটাক্ষ করে বলেন, “সৎকারে না এসে, খাওয়ার সময় চলে এসেছে!” এই মন্তব্য ঘিরেই দু’জনের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়। এরপর কমল তার দুই খুড়তুতো ভাই পরিমল ও বিমলকে এই ঘটনার কথা জানায়। অভিযোগ, ওই দিন সন্ধ্যায় অমিত হনুমান মন্দিরে ঘুমিয়েছিলেন। সেই সময় তিন ভাই মিলে তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করে।

অমিতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যদের উপর চড়াও হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে, দুই পুলিশ আধিকারিকও আহত হন। শনিবার রাত থেকে রবিবার, ১ জুন দুপুর পর্যন্ত বক্তানগরে চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী, কমব্যাট ফোর্স ও আরএএফ (RAF) মোতায়েন করা হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার সময় অমিতের স্ত্রী বাঁচাতে গেলে, তাঁকেও মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় অমিতকে প্রথমে রানিগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে আলুগড়িয়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পাঠানো হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। তবে রাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে, তাঁকে রানিগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই শনিবার বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়।

এই ঘটনার পর বাউরি সমাজের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান। জানা গেছে, অভিযুক্ত পরিমল বাউরিকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অন্য অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। শ্রাদ্ধবাড়ির সামান্য বচসা যে এমন মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।