“আমন্ত্রণ পাইনি তাই যাইনি”-অমিত শাহের সভায় ‘ব্রাত্য’ দিলীপ খেলেন জামাইষষ্ঠী, বললেন…?

বঙ্গ বিজেপির অন্দরে কি ক্রমশ একঘরে হয়ে পড়ছেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজ্য রাজনীতিতে। গত বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় অনুপস্থিতির পর রবিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতাজি ইন্ডোরের সভাতেও দেখা গেল না তাঁকে। দলের রাজ্য স্তরের সব ছোট-বড় নেতা উপস্থিত থাকলেও দিলীপ ঘোষের অনুপস্থিতি নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
কেন ব্রাত্য দিলীপ?
দিলীপ ঘোষের এই অনুপস্থিতি নিয়ে দলের অন্দরে চলছে জোর আলোচনা। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাপ্রবাহই হয়তো এর কারণ। গত এপ্রিলে তাঁর বিবাহ এবং সস্ত্রীক দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ বিজেপির অন্দরে সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। দলীয় সূত্রের খবর, শীর্ষ নেতৃত্ব এই সাক্ষাৎকে ভালোভাবে নেয়নি। মনে করা হচ্ছে, সম্ভবত এই কারণেই আপাতত দিলীপ ঘোষকে দলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচী থেকে দূরে রাখা হচ্ছে। তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গের সভা বা অমিত শাহের কলকাতার কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
‘আমন্ত্রণ পাইনি তাই যাইনি’
এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ ঘোষ সরাসরি জানান, “আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে আমি যাইনি।” রবিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে অমিত শাহের সভায় রাজ্য স্তরের সব নেতাই ডাক পেয়েছিলেন, এমনকি রাজ্য কমিটির সাধারণ সদস্যরাও। অথচ, দিলীপ ঘোষের কাছে কোনো আমন্ত্রণ পৌঁছয়নি। এই বিষয়ে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, “আমার মনে হয় আরও অনেক প্রাক্তন বিজেপি সভাপতিকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে, আমাদের সাংগঠনিক সভায় আমন্ত্রণ না করলে যাওয়ার নিয়ম নেই। এখন কেবল সেই ব্যক্তিরাই বলতে পারবেন কেন আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “মাননীয় অসীম ঘোষ, মাননীয় তথাগত রায়, যিনি প্রাক্তন অধ্যক্ষ ছিলেন, তাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। দল কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত নতুন ব্যক্তিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন। তারা সিদ্ধান্ত নেবেন, আমরা তা অনুসরণ করব।”
জানা যাচ্ছে, রবিবার জামাইষষ্ঠীর দুপুরে যখন শাহ নেতাজি ইন্ডোরে সভা করছিলেন, তখন দিলীপ ঘোষ ছিলেন তাঁর মামাশ্বশুরের বাড়িতে। সেখানে জামাইষষ্ঠীর নিমন্ত্রণ রক্ষা করার পর তিনি আরএসএস-এর একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
দিলীপ ঘোষের এই ধারাবাহিক অনুপস্থিতি এবং তাঁর মন্তব্যে স্পষ্ট যে, দলের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর একটি দূরত্ব তৈরি হয়েছে। আগামী দিনে রাজ্য বিজেপির রাজনীতিতে এই ঘটনার কী প্রভাব পড়ে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।