স্বামীর সঙ্গে বচসা, চার মাসের সন্তানকে আছড়ে মারল মা! গ্রেফতার করল পুলিশ

এক ভয়াবহ পারিবারিক কলহের চরম মূল্য দিতে হলো চার মাসের এক নিষ্পাপ শিশুকে। স্বামী-স্ত্রীর তুমুল ঝগড়ার মাঝে নিজের কোলের সন্তানকে আছড়ে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে মায়ের বিরুদ্ধে। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদের ইছাপুর গ্রামে, যা গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া ফেলেছে। মৃত শিশুর নাম শিব সর্দার।
শুক্রবার সকালে এই নারকীয় ঘটনার খবর পেয়ে হাসনাবাদ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। শিশুর নিথর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বসিরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত দম্পতিকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর অবশেষে ‘খুনি’ মা অনিতা সর্দারকে গ্রেফতার করেছে হাসনাবাদ থানার পুলিশ।
বসিরহাট জেলার পুলিশ সুপার হোসেন মেহেদি রহমান এই বিষয়ে বলেন, “শুধুমাত্র পারিবারিক বিবাদ নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনও গভীর কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃত মহিলার স্বামীর ভূমিকাও তদন্তের আওতায় রয়েছে। ধৃতকে শনিবার আদালতে পেশ করা হবে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাসনাবাদের ভবানীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ইছাপুর গ্রামের বাসিন্দা তুফান সর্দার ও অনিতা সর্দার। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সাংসারিক অশান্তি লেগেই থাকত বলে অভিযোগ। বারবার দুই পরিবার এক জায়গায় বসে তাদের বিবাদ থামানোর চেষ্টা করলেও, তা বিফলে গেছে। দম্পতির মধ্যে প্রায়ই নানা কারণে অশান্তি বাঁধতো।
কী ঘটেছিল সেই ভয়ঙ্কর সকালে?
শুক্রবার সকালেও তুফান ও অনিতা পারিবারিক বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। এক সময়ে সেই বিবাদ এতটাই চরমে ওঠে যে, তা চরম আকার ধারণ করে। দম্পতির মধ্যে যখন এই তুমুল বাগবিতণ্ডা চলছিল, তখন বাড়ির উঠোনে শুয়েছিল তাদের চার মাসের নিষ্পাপ পুত্রসন্তান। অভিযোগ, বিবাদ চলাকালীন চূড়ান্ত রাগের বশে মা অনিতা সর্দার নিজের সন্তানকে আছড়ে মারেন। তাতেই ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই শিশুর।
স্থানীয়দের দাবি, এই দম্পতি তাদের পুত্র সন্তান-সহ দু’দিন আগে এক আত্মীয়ের বাড়িতে ঘুরতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার বাড়ি ফেরার পর থেকেই তাদের মধ্যে প্রবল অশান্তি শুরু হয়। সেই অশান্তির মধ্যেই এই নির্মম ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই নৃশংস ঘটনার জন্য দোষীর কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন।
এই নির্মম ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসেন এবং তারাই পুলিশে খবর দেন। পুলিশের তৎপরতায় দেহ উদ্ধার এবং অভিযুক্ত মাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন একটাই: কীভাবে একজন মা নিজের সন্তানকে এমন নৃশংসভাবে খুন করতে পারেন? এই ঘটনা সমাজের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে এবং পারিবারিক কলহের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে নতুন করে ভাবার অবকাশ তৈরি করেছে।