প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জের মুখে মমতার পাল্টা তোপ! উন্নয়ন প্রকল্পের লড়াইয়ে তথ্য তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট

আলিপুরদুয়ারে প্রধানমন্ত্রীর সভা থেকে রাজ্য প্রশাসনের উন্নয়নমূলক প্রকল্পকে চ্যালেঞ্জ ছোঁড়ার পর, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা তোপ দাগলেন। গত ১৪ বছরে আলিপুরদুয়ার জেলার জন্য রাজ্য সরকার কী কী কাজ করেছে, তার বিস্তারিত তথ্য এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশ করে তিনি চ্যালেঞ্জের জবাব দিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর দাবিকে নস্যাৎ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পোস্টে আলিপুরদুয়ারের পরিকাঠামো থেকে শুরু করে সামাজিক সুরক্ষা, চা-বাগান কর্মী, আদিবাসী উন্নয়ন-সহ একাধিক ক্ষেত্রের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট জানান, রাজ্য সরকার উন্নয়নের কাজ করেনি, প্রধানমন্ত্রীর এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন:

পরিকাঠামো উন্নয়ন: ‘ডুয়ার্স কন্যা’ মডেল সমন্বিত প্রশাসনিক ভবন-সহ একাধিক পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য পরিষেবা: ফালাকাটায় মাল্টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, আয়ুষ হাসপাতাল, নার্সিং স্কুল, ব্লাড ব্যাঙ্ক, ওয়েলনেস সেন্টার-সহ একাধিক স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে।
শিক্ষা: আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, নতুন সরকারি কলেজ, প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং হস্টেল তৈরি করা হয়েছে।
জনগণের সুবিধা: কিষাণ মান্ডি, সুফল বাংলা স্টল, কর্মতীর্থ, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন, সুপার মার্কেট, স্টেডিয়াম, মহিলা পুলিশ স্টেশন এবং বাংলা সহায়তা কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলির তালিকাও তুলে ধরেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, খাদ্যসাথী, সবুজ সাথী, রূপশ্রী, স্বাস্থ্য সাথী, শিক্ষাশ্রী, আকাশশ্রী, তরুণের স্বপ্ন, জয় জোহর পেনশন, কৃষকবন্ধু, বাংলা শস্য বীমা-সহ বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে আলিপুরদুয়ারের মানুষ উপকৃত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

চা-শ্রমিক এবং আদিবাসীদের জমির পাট্টা প্রদানের খতিয়ানও দেন মুখ্যমন্ত্রী। ১৭,০৭২টি জমির পাট্টা, ১২,৬১৪টি শরণার্থী পাট্টা, ৬,৩৯৭টি বনের পাট্টা এবং ১,১২৭টি চা সুন্দরী পাট্টা বিতরণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

মূল উন্নয়ন প্রকল্পগুলির মধ্যে জলস্বপ্ন, বাংলার বাড়ি, কর্মশ্রী, পথশ্রী, সেতু নির্মাণ, বাস স্ট্যান্ড-সহ একাধিক প্রকল্পের উল্লেখ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

চা বাগান এবং শ্রমিক উন্নয়ন নিয়ে তিনি বলেন, বন্ধ বাগান পুনরায় চালু, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, বিনামূল্যে রেশন, পানীয় জল, বিদ্যুৎ এবং চিকিৎসা পরিষেবা, ক্রেশ তৈরি এবং চা সুন্দরী প্রকল্পের মাধ্যমে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা হয়েছে।

শিল্প ক্ষেত্রে উন্নয়ন এবং আদিবাসীদের উন্নয়নের খতিয়ানও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি ভাষার মর্যাদা, উন্নয়ন বোর্ড ও একাডেমি গঠন, সরকারি ছুটি ঘোষণা, রাজবংশী স্কুল, সাঁওতালি মাধ্যম স্কুল, নারায়ণী ব্যাটালিয়ন গঠন, সারনা ও সারি ধর্মের স্বীকৃতি, বন পাট্টা বিতরণ, বীরসা মুন্ডা ও পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মুর জন্মদিন এবং হুল দিবসে ছুটি ঘোষণা, জয় জোহর বার্ধক্য ভাতা, জাহের থান ও মাঝি থানগুলির উন্নয়ন-সহ একাধিক প্রকল্পের উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জের মুখে মুখ্যমন্ত্রীর এই পাল্টা তোপ আলিপুরদুয়ারের রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।