কীভাবে শুরু হল জামাইষষ্ঠী পালনের প্রথা, এবার কবে পড়ছে? জানুন সমস্ত তথ্য

বাঙালির ঘরে ঘরে জামাইষষ্ঠী এক বিশেষ উৎসাহ ও আনন্দের উৎসব। এটি কেবল একটি প্রথা নয়, বরং দুই পরিবারের মধ্যে ভালোবাসার বন্ধন এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক সুন্দর প্রকাশ।
বাঙালি হিন্দু সমাজে জামাইষষ্ঠীর গুরুত্ব অপরিসীম। সারা বছর ধরে সকলে অধীর আগ্রহে এই উৎসবের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। মেয়ের বাবা-মায়েরা এই বিশেষ দিনের জন্য প্রস্তুতি নেন। বিভিন্ন মরসুমি ফল, প্রদীপ, হাত পাখা, নতুন বস্ত্র এবং অন্যান্য উপহার সামগ্রী দিয়ে শাশুড়িরা জামাইকে বরণ করে নেন। এরপর জামাইয়ের পছন্দ অনুযায়ী নানা সুস্বাদু পদের আয়োজন করা হয়।
কবে জামাইষষ্ঠী ২০২৫?
এ বছর জামাইষষ্ঠী পালিত হবে আগামী ১ জুন, রবিবার। পঞ্জিকা অনুযায়ী, ৩১ মে রাত ১২টা ৩৪ মিনিট থেকে ১ জুন রাত ১২টা ৮ মিনিট পর্যন্ত ষষ্ঠী তিথি থাকবে। জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়।
একসময় ভারতবর্ষ তথা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে একটি সামাজিক সংস্কার প্রচলিত ছিল যে, বিবাহিত মেয়ে পুত্রবতী না হওয়া পর্যন্ত তার বাবা-মা কন্যা গৃহে পা রাখবেন না বা মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে জলও গ্রহণ করবেন না। এর ফলে বাবা-মাকে দীর্ঘকাল মেয়ের মুখ দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হত। এই প্রেক্ষাপটে, জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লা ষষ্ঠীকে বেছে নেওয়া হয় জামাইষষ্ঠী হিসাবে। এই দিনে মেয়ে ও জামাইকে নিমন্ত্রণ করে সমাদর করা হত এবং এর মধ্য দিয়ে মেয়ের মুখ দর্শনও সম্ভব হত। একই সঙ্গে, মা ষষ্ঠীর পুজো করে তাঁকে প্রসন্ন করা হত, যাতে মেয়ে শীঘ্র পুত্রমুখ দর্শন করতে পারে। এভাবেই জামাইষষ্ঠীর এই প্রথা শুরু হয়।
জামাইষষ্ঠীর দিনে শাশুড়িরা তাদের বাড়িতে দেবী ষষ্ঠীর পুজো করেন। এই সময় তিনি দেবী ষষ্ঠীর উদ্দেশ্যে পাঁচ ধরনের ফল, ফুল, গোটা চাল এবং সিঁদুর নিবেদন করেন। পুজোর পর শাশুড়ি জামাইকে পাঁচ ধরনের ফল, মিষ্টি ও প্রদীপ ইত্যাদি দিয়ে বরণ করে নেন। এই দিনে শাশুড়িরা জামাইয়ের জন্য বিভিন্ন ধরণের সুস্বাদু খাবার রান্না করেন, যার মাধ্যমে জামাইষষ্ঠীর উৎসব এক অনন্য মাত্রা পায়।