‘স্থানীয় তৃণমূল নেতার নেতৃত্বেই মুর্শিদাবাদে হিংসা’, রিপোর্টে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য!

মুর্শিদাবাদের সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট গঠিত কমিটির জমা দেওয়া রিপোর্টে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সূত্রের খবর, এই রিপোর্টে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য, যা নতুন করে রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, বেতবোনার মতো একটি এলাকাতেই অন্তত ১১৩টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, মালদহে আশ্রয় নেওয়া আক্রান্তদের জোর করে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং পুলিশ এই ঘটনায় পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় ছিল, এমনকি তাদের বিরুদ্ধে তীব্র অসহযোগিতার অভিযোগও আনা হয়েছে।
রিপোর্টের সবচেয়ে বিস্ফোরক অংশটি হলো, এতে স্থানীয় কাউন্সিলর মেহবুব আলমের নাম উঠে এসেছে। সূত্রের খবর, আদালত গঠিত কমিটি স্পষ্ট জানিয়েছে যে, মেহবুব আলমের নেতৃত্বেই এই হামলাগুলি চালানো হয়েছে। পুলিশ সবই দেখেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
যদিও, রিপোর্টে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় কাউন্সিলর মেহবুব আলম। তিনি বলেন, “কেউ একজন বলে দিল যে আমি তাদের বাড়ি ভাঙচুর করেছি! কিন্তু মুখে বললেই তো হবে না, প্রমাণ লাগবে। গোলমালের সময় আমি প্রাণ বাঁচানোর জন্য নাদাবপাড়াতে লুকিয়েছিলাম। আমি কীভাবে বেতবোনাতে ভাঙচুর করতে যাব? আমি তো একজন মানুষ, নাদাবপাড়া থেকে ওখানে কীভাবে যাব?”
ঘটনাচক্রে, সামসেরগঞ্জের বিধায়ক আমিরুল ইসলামের নাম সরাসরি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়নি, বরং বলা হয়েছে তিনি ‘তদারকি’ করেছেন। আবার অন্য একটি জায়গায় উল্লেখ আছে যে, আমিরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি তাণ্ডবস্থল ঘুরে গেছেন। এই বিষয়টি নিয়েও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
আদালত গঠিত এই তিন সদস্যের কমিটি মুর্শিদাবাদে সরেজমিনে গিয়ে এই রিপোর্ট তৈরি করেছে। এই রিপোর্টে ছত্রে ছত্রে উঠে আসা বিস্ফোরক অভিযোগগুলি আবারও মুর্শিদাবাদের হিংসা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার, এই রিপোর্টের ভিত্তিতে আদালত এবং প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।