সিভিক ভলেন্টিয়ারের পর্দা ফাঁস, ঘুষের টাকা নিয়ে বাইক চালকের সঙ্গে দর কষাকষি! ভাইরাল ভিডিয়ো

‘রক্ষক যখন ভক্ষক’ – এই কথাটি ফের একবার প্রকাশ্যে এলো জলপাইগুড়িতে, যেখানে প্রকাশ্যে এক সিভিক ভলেন্টিয়ারের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, নদীয়ার ধানতলা এলাকা থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের চেষ্টার সময় তিন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রাজ্যের দুই প্রান্তে এই দুটি ভিন্ন ঘটনা প্রশাসনের বিভিন্ন দিককে সামনে নিয়ে এসেছে।

জলপাইগুড়ি শহরের পোস্ট অফিস মোড় এলাকায় ট্রাফিক পোস্টের কাছে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে এক সিভিক ভলেন্টিয়ারের ঘুষ নেওয়ার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই শহরজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। (যদিও ভাইরাল হওয়া এই ভিডিও বা ছবির সত্যতা যাচাই করেনি এশিয়ানেট নিউজ বাংলা)।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, জলপাইগুড়ি শহরের পোস্ট অফিস মোড় এলাকায় ট্রাফিক পোস্টের একটি বুথের ভিতরে ঢুকে এক বাইক চালকের সঙ্গে ঘুষের পরিমাণ নিয়ে রীতিমত দরদাম করতে দেখা যায় অভিযুক্ত সিভিক ভলেন্টিয়ারকে। এরপর হাত পেতে কড়কড়ে টাকা নিয়ে তা গুনে পকেটে রাখেন তিনি।

জানা গেছে, কানু রায় নামে ওই যুবক দীর্ঘদিন ধরে জলপাইগুড়ি সদর ট্রাফিক পুলিশে সিভিক ভলেন্টিয়ার হিসেবে কাজ করছেন। গত শুক্রবার তার ডিউটি ছিল পোস্ট অফিস মোড়ে। ডিউটি চলাকালীন এক মোটর বাইক চালকের কাছে বৈধ কাগজপত্র না থাকার সুযোগ নিয়ে তিনি মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। সূত্রের খবর, শেষমেশ ওই সিভিক ভলেন্টিয়ার মোটর বাইক চালকের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা ঘুষ নেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে এই চিত্রই দেখা গেছে।

এদিকে, এই ভাইরাল ভিডিওটি পুলিশ কর্তাদের নজরে আসতেই শনিবার অভিযুক্ত সিভিক ভলেন্টিয়ার কানু রায়ের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। জলপাইগুড়ি সদর ট্রাফিক পুলিশ তাকে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। পাশাপাশি, ঘটনার সময় ওই ট্রাফিক পোস্টে কর্তব্যরত এসআই-কেও ক্লোজ করেছেন জেলার পুলিশ সুপার উমেশ খান্ডবাহালে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়াকে কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।

অন্যদিকে, নদীয়ার ধানতলা থানা এলাকা থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের চেষ্টার সময় তিন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের খোঁজে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, গত শনিবার রাতে ধানতলা থানার পুলিশ দত্তফুলিয়া কালীতলা এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান চালায়। সেই অভিযান চলাকালীন সন্দেহভাজন তিন ব্যক্তিকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হয় এবং জানা যায় তারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল।

ধৃত তিন বাংলাদেশি নাগরিকের নাম হলো রুপা বেগম, মোহাম্মদ আলম এবং মনিরা শেখ। তারা বাংলাদেশের খুলনা এবং ঝিনাইদহ জেলার বাসিন্দা বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। পুলিশ আরও জানায়, এই তিন ধৃত বাংলাদেশি ভারতীয় দালালের সহযোগিতায় কিছু মাস আগে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করে এবং ধানতলা থানা এলাকায় এসে আত্মগোপন করেছিল। অভিযোগ, শনিবার রাতে তারা ফের অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। গোপন সূত্রে এই খবর পেয়ে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।

ধৃতদের রবিবার রানাঘাট আদালতে পেশ করেছে ধানতলা থানার পুলিশ। এই বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত পারাপারের চেষ্টার বিরুদ্ধে পুলিশের কড়া নজরদারি ও অভিযান চলবে।