ফের মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান, বাড়ল সংঘর্ষ বিরতির মেয়াদ, নেওয়া হল বড় সিদ্ধান্ত

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান সংঘর্ষ বিরতির মেয়াদ আগামী ১৮ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। দুই দেশের সামরিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সূত্র মারফত জানা গেছে, শীঘ্রই ভারত ও পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশন (DGMO) পর্যায়ে আবারও বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে সীমান্ত ও নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে সেনা ধীরে ধীরে কমানো এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
সম্প্রতি পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলার জবাবে গত ৭-৮ মে রাতে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ পরিচালনা করে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে দেয়। এই অভিযানের পর থেকেই সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং পাকিস্তান সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন করে গোলাগুলি ও ড্রোন-মিসাইল হামলা চালায়।
বেশ কয়েকদিন ধরে চলা এই উত্তেজনার পর অবশেষে পাকিস্তান নতি স্বীকার করে এবং আমেরিকার মধ্যস্থতায় ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংঘর্ষ বিরতির প্রস্তাব দেয়। গত ১০ মে দুই দেশের মধ্যে একটি সংঘর্ষ বিরতি কার্যকর হলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তান তা লঙ্ঘন করে বলে ভারত অভিযোগ করে।
তবে গতকাল ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং সেনা কমানো নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এবার সংঘর্ষ বিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা এলো।
অন্যদিকে, সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে ভারত তার অবস্থানে অনড় রয়েছে। সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে ভারতের স্পষ্ট অবস্থান হলো, পাকিস্তান কর্তৃক সন্ত্রাসবাদী হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ না হলে সিন্ধুর জল ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে না। ভারতের এই কড়া অবস্থান পাকিস্তানকে সন্ত্রাস দমনে আরও চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, সংঘর্ষ বিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং ডিজিএমও পর্যায়ে আলোচনার সিদ্ধান্ত ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে সিন্ধু জল চুক্তি এবং সন্ত্রাসবাদের মতো অমীমাংসিত ইস্যুগুলো দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এখনও চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।