“দেশবিরোধী কিছু পোস্ট করলেই কড়া ব্যবস্থা”- বাংলা সহ সব রাজ্যকে নির্দেশ কেন্দ্র সরকারের

কেন্দ্র সরকার এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় দেশবিরোধী অপপ্রচার এবং ভুয়ো খবর ছড়ানো রুখতে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। কেন্দ্রের তরফে সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং রাজ্য সরকারগুলিকে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। যেকোনও ধরনের দেশবিরোধী বা ভুয়ো খবর নজরে এলেই অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করে দ্রুততার সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, দেশের ভিতর বা বিদেশ থেকে যদি কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ভারতবিরোধী প্রচার চালায়, তবে সেই সমস্ত অ্যাকাউন্ট তৎক্ষণাৎ ব্লক করে দিতে হবে। এই ধরনের ফেক অ্যাকাউন্টগুলিকে দ্রুত চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

এই লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের সমস্ত রাজ্য সরকারগুলিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে। কেন্দ্র জানিয়েছে, রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলির মধ্যে আরও নিবিড় সমন্বয় স্থাপন করতে হবে যাতে খুব দ্রুত ফেক অ্যাকাউন্টগুলিকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।

নির্দেশিকায় সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলির জন্য বিশেষভাবে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় যে সমস্ত স্পর্শকাতর বা দুর্বল পয়েন্ট রয়েছে, সেগুলির সুরক্ষা আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র বলেছে, সেনা, আধাসামরিক বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় আরও শক্তিশালী করতে হবে যাতে যে কোনও বিপদজনক পরিস্থিতি দ্রুত এবং কার্যকরভাবে সামলানো সম্ভব হয়। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের সুবিধার জন্য সীমান্ত এলাকায় নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

গুজব বা ভুয়ো খবর যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বা বিভ্রান্তি তৈরি করতে না পারে, তার জন্য রাজ্যগুলিকে প্রয়োজনীয় সচেতনতা প্রচার চালানোর কথা বলেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। মানুষকে সঠিক তথ্যের ব্যাপারে শিক্ষিত করে তোলা এবং কোনটি সত্যি আর কোনটি ভুয়ো খবর, তা চিনিয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে, যাতে অকারণ ভয় বা উত্তেজনা না ছড়ায়।

একজন কেন্দ্রীয় আধিকারিক জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়া বর্তমানে তথ্য আদান-প্রদানের একটি প্রধান মাধ্যম। কিন্তু এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অশুভ শক্তি দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এই ধরনের ভুয়ো প্রচার অনেক সময় সমাজে বিভেদ তৈরি করে এবং দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। তাই সরকার দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের কৌশল নিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরাও কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে সময়োপযোগী এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। তাঁদের মতে, ভুয়ো খবরের জেরে অনেক সময় সামান্য ঘটনাও ভয়াবহ আকার নিতে পারে, যা অতীতেও দেখা গেছে। তাই এই বিষয়ে কেন্দ্রের কড়া মনোভাব দেশের নিরাপত্তার জন্য একান্ত জরুরি।

সব মিলিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেশবিরোধী অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সরকার একপ্রকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। এখন দেখার বিষয়, রাজ্য সরকারগুলি এই নির্দেশিকাকে কতটা দ্রুত এবং কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে।