রাহুল, মমতা থেকে অখিলেশ, স্ট্যালিন, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাফল্যে মুগ্ধ বিরোধীরা, সেনার প্রশংসা…

পহেলগাঁওতে বর্বরোচিত জঙ্গি হামলার যোগ্য জবাব দিল ভারত। বুধবার ভোররাতে (বা মঙ্গলবার গভীর রাতে) পাকিস্তানে জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পরিচিত এই শক্তিশালী প্রত্যাঘাতে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গিদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আস্তানা ধ্বংস করা হয়েছে। সূত্রের দাবি, এই হামলায় ৮০ জনেরও বেশি জঙ্গিকে নিকেশ করা হয়েছে। ভারতের এহেন দৃঢ় এবং সফল পদক্ষেপ নিয়ে ইতিমধ্যেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিরোধী নেতৃত্ব মুখ খুলেছেন এবং ভারতীয় সেনার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও হামলার পর গোটা দেশে তীব্র ক্ষোভ এবং বদলার দাবিতে রব উঠেছিল। পাকিস্তান যাতে এই হামলার যোগ্য জবাব পায়, সেই দাবি জোরালো হয়েছিল বিরোধী শিবিরেও। অবশেষে ভারত সামরিক প্রত্যাঘাত হানায় বিরোধী নেতৃত্ব স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং জাতীয় স্বার্থে সেনার পাশে দাঁড়িয়েছেন।
দেশের এই আবহে এবং ভারতীয় সেনার সফল অভিযানের পর বিভিন্ন বিরোধী নেতা সোশ্যাল মিডিয়া বা এক্স হ্যান্ডলে তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংক্ষেপে কিন্তু জোর দিয়ে লিখেছেন, ‘জয় হিন্দ। জয় ইন্ডিয়া।’ লোকসভার বিরোধী দলেনতা রাহুল গান্ধীও একই সুর তুলেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘সেনাবাহিনীর জন্য আমরা গর্বিত। জয় হিন্দ।’ সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব এই অভিযানকে অভিহিত করেছেন, ‘সাহসিকতার সঙ্গে বিজয়’ বলে। বহুজন সমাজ পার্টির নেত্রী মায়াবতী ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে লিখেছেন, ‘পাকিস্তানে ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অপারেশন সিঁদুর অভিযান গৌরবময় এবং প্রশংসনীয়।’ ডিএমকে নেতা এম কে স্ট্যালিন স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতীয় সেনার পাশে রয়েছে সমগ্র তামিলনাড়ু এবং তার সরকার।
উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় ঘটে যাওয়া জঙ্গি হামলায় ২৫ জন পর্যটক ও একজন স্থানীয় কাশ্মীরি সহ মোট ২৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় গোটা দেশ ফুঁসছিল। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অবিলম্বে বদলা নেওয়ার দাবি উঠেছিল সর্বত্র। এই ঘটনার পর পাকিস্তান যাতে পার পেয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করতে ভারতের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক স্তরে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল। সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করা, পাক ভিসা বাতিল করা সহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এছাড়াও আকাশপথেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া মনোভাব দেখায় নয়াদিল্লি। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পাকিস্তানকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেন। কখন, কোথায় এবং কী নিশানা করা হবে, তা স্থির করার ভার সম্পূর্ণভাবে দেওয়া হয় ভারতীয় সেনার উপর। অবশেষে সুচিন্তিত পরিকল্পনা অনুযায়ী বুধবার ভোররাতে পহেলগাঁও হামলার যোগ্য সামরিক জবাব দিল ভারত।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন সিঁদুর’ একদিকে যেমন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের দৃঢ় মনোভাবকে তুলে ধরেছে, তেমনই এটি দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক ঐক্যকেও কিছুটা প্রতিফলিত করেছে। এই অভিযানে সামরিক সাফল্যের পাশাপাশি বিরোধী নেতৃত্বের প্রশংসা প্রমাণ করে যে, জাতীয় সুরক্ষার প্রশ্নে দলমত নির্বিশেষে গোটা দেশ একজোট এবং সেনাবাহিনীর পাশে রয়েছে।