“ভারত মেপে বুঝে অ্যাকশন নিয়েছে…”- ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে যা বললেন বিদেশ সচিব

গত ৭ই মে মধ্যরাতে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পরিচালিত বিমান হামলা ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেস ব্রিফিং আয়োজন করে ভারত। এই সময় ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি স্পষ্টভাবে জানান যে, এই সামরিক পদক্ষেপ ছিল ‘জল মেপে, বুঝে, আঁটঘাট বেঁধে’ নেওয়া একটি দায়িত্বশীল হামলা, কোনওভাবেই উস্কানিমূলক নয়। এর মাধ্যমে ভারত বোঝাতে চেয়েছে যে তাদের লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসবাদ, কোনোভাবেই পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাত বাড়ানো নয়।

ভারতীয় সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং বিদেশ মন্ত্রক যৌথভাবে এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে ‘অপারেশন সিঁদুর’ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করে। এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্নেল সোফিয়া কুরেশী। দুই মহিলা কমান্ডারের উপস্থিতি সম্ভবত এই অভিযানের সুপরিকল্পিত এবং পেশাদার প্রকৃতির উপর জোর দেওয়ার জন্য ছিল।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে একটি শক্তিশালী বার্তা দিতে ভারতের উপর হওয়া বিগত বড় আকারের সন্ত্রাসবাদী আক্রমণগুলির সম্পর্কিত ক্লিপিং দেখানো হয়। এর মধ্যে ছিল ২০০১ সালে ভারতের সংসদ আক্রমণ, ২০০৮ সালের মুম্বই সন্ত্রাসবাদী হামলা, উরি, পুলওয়ামা এবং সাম্প্রতিক পহেলগাঁও হামলার মতো ঘটনাগুলি। এর মাধ্যমে স্পষ্ট করে বোঝানো হয় যে এই অপারেশন ছিল সন্ত্রাসবাদের একটি ধারাবাহিক ইতিহাসের প্রতিক্রিয়া, যা প্রতিবেশী দেশ থেকে পরিচালিত হচ্ছে।

বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি পহেলগাঁও আক্রমণকে অত্যন্ত ‘কাপুরুষোচিত’ আখ্যা দেন। তিনি বলেন, জম্মু ও কাশ্মীরের স্বাভাবিক শান্তি বিঘ্নিত করার ঘৃণ্য উদ্দেশ্য নিয়ে এই হামলা চালানো হয়েছিল। এমনকি এই হামলার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উস্কে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়েছিল। মিস্রি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, পহেলগাঁও হামলার তদন্তে পাওয়া তথ্যপ্রমাণ সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে পাকিস্তানের সরাসরি যোগসূত্রকে প্রকাশ্যে এনেছে, যা ভারতের পদক্ষেপকে ন্যায্য প্রমাণ করে।

তিনি আরও বলেন, “পাকিস্তান দুর্ভাগ্যবশত বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদীদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে। এরা কেবল সন্ত্রাসীদের আশ্রয়ই দেয় না, বরং তাদের শাস্তি এড়াতেও নানাভাবে সাহায্য করে, যা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি।”

এই প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে ভারত আন্তর্জাতিক মহলের সামনে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ‘অপারেশন সিঁদুর’ কোনও যুদ্ধংদেহী বা আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ ছিল না, বরং এটি ছিল সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার একটি প্রয়োজনীয় এবং সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ। পাকিস্তানের মাটিতে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয় এবং কার্যকলাপের বিরুদ্ধে এটি ছিল ভারতের একটি দৃঢ় এবং দায়িত্বশীল প্রতিক্রিয়া, যা কেবল সুনির্দিষ্ট জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করেই পরিচালিত হয়েছে।