IPL-থেকে ছিটকে গিয়েছে RR-CSK, প্লে অফের লড়াইয়ে বাকি ৮ দলের অবস্থান কেমন?

এবারের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (IPL) ২০২৩-এ প্লে অফের লড়াই দারুণ জমে উঠেছে। চেন্নাই সুপার কিংস (CSK) এবং রাজস্থান রয়্যালস (RR) টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেলেও, আটটি দল এখনও শেষ চারে জায়গা করে নেওয়ার জোরাল দাবিদার। টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের শেষ ভাগে এসে প্রতিটি ম্যাচই এখন ‘ডু অর ডাই’ পরিস্থিতি তৈরি করেছে; একটি হার মানেই প্লে অফের দৌড় থেকে পিছিয়ে পড়া, এমনকি ছিটকেও যাওয়া। দশটি দলই কমপক্ষে ৯টি করে ম্যাচ খেলেছে এবং গ্রুপ পর্বে এখন আর মাত্র ২০টি ম্যাচ বাকি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেখে নেওয়া যাক কোন দলের প্লে অফে যাওয়ার সুযোগ ঠিক কতটা এবং তাদের সমীকরণ কী বলছে:

মুম্বই ইন্ডিয়ান্স (MI):
পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বই ইন্ডিয়ান্স শেষ চারে জায়গা করে নেওয়ার পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে। ১১ ম্যাচে ৭ জয় নিয়ে তাদের ১৪ পয়েন্ট রয়েছে। টানা ছয়টি জয়ের মাধ্যমে মুম্বই তাদের নেট রান রেটও (১.২৭৪) উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে, যা টাই ব্রেকারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স যদি তাদের বাকি ম্যাচগুলি হেরেও যায়, তবুও তারা শেষ চারে যেতে পারে, তবে সেক্ষেত্রে অন্য দলের ফলাফল এবং নেট রান রেটের উপর নির্ভর করতে হবে। মুম্বই যদি তাদের বাকি দুটি ম্যাচের মধ্যে আরও একটি ম্যাচ জিততে পারে, তাহলে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে প্লে-অফে পৌঁছানো তাদের অনেকটাই নিশ্চিত করবে। দুটি জিতলে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষ দুইয়ে থাকারও ভালো সুযোগ থাকবে।

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB):
প্রথম আইপিএল শিরোপার লক্ষ্যে থাকা রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB) ১০ ম্যাচে সাতটি জয়ে ১৪ পয়েন্ট পেয়েছে। তবে, ১৪ পয়েন্ট পেলেও আরসিবি এখনও যোগ্যতার কাট-অফ থেকে নিরাপদ দূরত্বে নেই। কারণ এখনও সাতটি দল ১৬ বা তার বেশি পয়েন্ট অর্জন করতে পারে, যেখানে পাঁচটি দল ১৮ বা তার বেশি পয়েন্ট অর্জন করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে, নেট রান রেট একটি বড় ফ্যাক্টর হবে। যোগ্যতা নিশ্চিত করতে আরসিবি-র সম্ভবত ১৮ বা ২০ পয়েন্টের প্রয়োজন হতে পারে। তবে, যদি অন্যান্য দলের ফলাফল তাদের পক্ষে যায় এবং নেট রান রেট ভালো থাকে, তাহলে ১৪ বা ১৬ পয়েন্ট নিয়েও আরসিবি যোগ্যতা অর্জন করতে পারবে।

পঞ্জাব কিংস (PBKS):
পঞ্জাব কিংস তাদের শেষ পাঁচটি ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে হেরেছে, যেখানে তারা তিনটি ম্যাচ জিতেছে এবং কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে তাদের একটি ম্যাচ বৃষ্টির কারণে বাতিল হয়ে গেছে। পঞ্জাব কিংসের ১০ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে, ছয়টি দল ১৭ বা তার বেশি পয়েন্ট পেতে পারে, যার অর্থ পঞ্জাব কিংসকে তাদের বাকি চারটি ম্যাচের মধ্যে কমপক্ষে তিনটি জিততে হবে (১৯ পয়েন্টের জন্য) প্লে অফে যাওয়ার জন্য। ১৫ পয়েন্ট নিয়েও তারা প্লে-অফে যেতে পারে, কিন্তু তারপর অন্যান্য ফলাফলের উপর নির্ভর করতে হবে।

গুজরাত টাইটান্স (GT):
শুভমান গিলের নেতৃত্বাধীন গুজরাত টাইটান্সের পয়েন্ট দশ হলেও তারা এখন পর্যন্ত নয়টি ম্যাচ খেলেছে, অর্থাৎ তাদের হাতে এখনও ৫টি ম্যাচ বাকি। গুজরাতের নেটরান রেট ০.৭৪৮, যা তুলনামূলকভাবে ভালো। যদি গুজরাত টাইটান্স তাদের বাকি ম্যাচগুলি থেকে চারটি জিততে পারে, তাহলে তারা ১৮ পয়েন্টে পৌঁছাবে এবং প্লে অফে জায়গা প্রায় নিশ্চিত করে ফেলবে। এমনকি তিনটি ম্যাচ জিতলে ১৬ পয়েন্ট নিয়েও তারা প্লে অফে পৌঁছাতে পারবে কারণ তাদের ইতিমধ্যেই ভালো নেট রানরেট রয়েছে।

দিল্লি ক্যাপিটালস (DC):
তাদের প্রথম শিরোপার সন্ধানে থাকা দিল্লি ক্যাপিটালস সম্প্রতি কিছুটা গতি হারিয়ে ফেলেছে। গত চার ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে পরাজয়ের ফলে দিল্লি পয়েন্ট টেবিলের পঞ্চম স্থানে চলে এসেছে। দিল্লি ক্যাপিটালস ১০ ম্যাচে ৬ জয়ে ১২ পয়েন্ট পেয়েছে। যেহেতু এখনও বেশ কয়েকটি দল ১৮ বা তার বেশি পয়েন্ট করতে পারে, এমন পরিস্থিতিতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ১৬ বা ১৮ পয়েন্টও তাদের প্লে-অফে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা দেবে না। যোগ্যতা নিশ্চিত করতে দিল্লির সম্ভবত ২০ পয়েন্ট প্রয়োজন। যদিও দিল্লি ১৪ পয়েন্ট নিয়েও প্লে-অফে যেতে পারে (তাদের হাতে ৪টি ম্যাচ বাকি, অর্থাৎ আর দুটি জিতলেই ১৪ হবে), তবে তারপর তা নির্ভর করবে অন্যান্য ফলাফল এবং নেট রান রেটের উপর।

লখনউ সুপার জায়ান্টস (LSG):
দিল্লি ক্যাপিটালসের মতো, লখনউ সুপার জায়ান্টসও তাদের শেষ চারটি ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে হেরেছে। লখনউয়ের বাকি চারটি ম্যাচের মধ্যে তিনটিই বর্তমানে শীর্ষ চার দলের বিরুদ্ধে। লখনউয়ের নেট রান রেট বর্তমানে -০.৩২৫, যা শীর্ষ ৬ দলের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ। ১৬ পয়েন্ট নিয়ে লখনউ প্লে-অফে পৌঁছানোর দৌড়ে থাকবে, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ১৮ পয়েন্টও যোগ্যতার নিশ্চয়তা দেয় না। তাদের রান রেট একটি চিন্তার কারণ।

কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR):
দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে জয় কলকাতা নাইট রাইডার্সকে প্লে অফের দৌড়ে ধরে রেখেছে। কেকেআর ১০ ম্যাচ খেলে ১৩ পয়েন্টে রয়েছে। তাদের হাতে আছে আর ৪টি ম্যাচ। কেকেআর যদি তাদের বাকি সব ম্যাচ জেতে, তাহলে তারা ২১ পয়েন্ট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবে এবং সম্ভবত লিগ শীর্ষে শেষ করবে। যদি তারা বাকি চারটি ম্যাচের মধ্যে দুটি জেতে, তাহলে তাদের পয়েন্ট হবে ১৭। যদি তারা বাকি চারটি ম্যাচের মধ্যে তিনটি জেতে, তাহলে তাদের পয়েন্ট হবে ১৯। ১৬ বা ১৭ পয়েন্ট নিয়েও কেকেআর প্লে-অফের টিকিট পেতে পারে (অন্যান্য ফলাফলের উপর নির্ভর করে)। তবে যদি তারা ১৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করে (অর্থাৎ বাকি সব ম্যাচ হারে), তাহলে নেট রান রেট খারাপ হলে প্লে-অফের দৌড় থেকে তাদের সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হতে পারে।

সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ (SRH):
সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের পয়েন্ট এবং ম্যাচের সংখ্যা উল্লিখিত না হলেও, যদি তারা তাদের বাকি ম্যাচগুলি জিতে (ধরা যাক ৪টি ম্যাচ বাকি), তাহলে তাদের পয়েন্ট হতে পারে ১৪ বা ১৬। যদি সব ম্যাচ জিতে ১৬ পয়েন্ট পায়, তাহলে নেট রান রেটের উপর নির্ভর না করেও তারা প্লে-অফে যেতে পারে, যদি অন্যান্য ফলাফল তাদের পক্ষে যায়। ১৪ পয়েন্ট নিয়েও তারা চতুর্থ স্থানে থাকতে পারে, কিন্তু এর জন্য তাদের বাকি ম্যাচগুলি থেকে বেশিরভাগই জিততে হবে এবং নেট রান রেট ভালো রাখতে হবে। তাদের প্লে অফের সমীকরণ নির্ভর করছে হাতে থাকা ম্যাচের সংখ্যা এবং বর্তমান পয়েন্টের ওপর।

সব মিলিয়ে, এবারের আইপিএলের প্লে অফের লড়াই শেষ ম্যাচ পর্যন্ত গড়ানো সম্ভাবনা প্রবল। প্রতিটি দলের জন্যই বাকি ম্যাচগুলো এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।