“নার্সিংহোমেই বিয়ে সারলেন দম্পতি”-অসুস্থ কনেকে কোলে তুলে সাতপাক ঘুরলেন বর

এ যেন ঠিক সিনেমার দৃশ্য! অসুস্থ স্ত্রীকে কোলে নিয়ে সাত পাক ঘুরছেন স্বামী। তবে এটি কোনও রূপোলি পর্দার গল্প নয়, বাস্তব। হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা অসুস্থ কনেকে কোলে তুলে নিয়ে সাত পাক ঘুরে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হলেন বর। মধ্যপ্রদেশের রাজগড় জেলার ব্যোবরা শহরে এক নার্সিংহোমের ভিতরেই তৈরি হল ছাদনাতলা। অক্ষয় তৃতীয়ার শুভ লগ্নে (১ মে, বৃহস্পতিবার) এই ব্যতিক্রমী বিবাহ অনুষ্ঠানের সাক্ষী রইলেন চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা।

ঘটনার সূত্রপাত ব্যোবরা শহরের পরমসিটি এলাকার বাসিন্দা আদিত্য সিং এবং কুম্ভরাজ এলাকার নন্দিনীর বিয়ে নিয়ে। কুম্ভরাজের কাছে পুরুষোত্তমপুরাতে তাঁদের বিয়ের মূল আসর বসার কথা ছিল। ১ মে, বৃহস্পতিবার, বিয়ের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু বিয়ের ঠিক কয়েকদিন আগে, গত ২৪ এপ্রিল হঠাৎই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন কনে নন্দিনী। শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ হয় যে তাঁকে তড়িঘড়ি ব্যোবরা এলাকার পাঞ্জাবি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তাঁকে কয়েকদিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নেন।

এদিকে, বিয়ের নির্ধারিত শুভ লগ্ন পেরিয়ে যাক, তা কোনওমতেই চাইছিলেন না পাত্র ও কনে উভয় পরিবার। তাই দুই পরিবারের সম্মতিতে এবং হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে নার্সিংহোমের ভিতরেই বিয়ের ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাতারাতি হাসপাতালের একটি অংশকে সাজিয়ে তৈরি করা হয় বিয়ের মণ্ডপ।

নার্সিংহোমের চিকিৎসক ডা: জেকে পাঞ্জাবি জানান, নন্দিনীর শারীরিক অবস্থা এতটাই দুর্বল ছিল যে দীর্ঘক্ষণ তাঁর পক্ষে বিয়ের মণ্ডপে বসে থাকা সম্ভব ছিল না। এই পরিস্থিতিতে দুই পরিবারের পক্ষ থেকে হাসপাতালেই বিয়ের অনুমতি চাওয়া হয় এবং হাসপাতালের তরফে সেই অনুমতি দেওয়া হয়।

বিয়ের নির্ধারিত দিনে আদিত্য সিং তাঁর বরযাত্রী নিয়ে পাঞ্জাবি নার্সিংহোমেই এসে পৌঁছন। সেখানেই পুরোহিত এবং নার্সিংহোমের নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সহযোগিতায় বিয়ের সমস্ত নিয়ম মেনে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। কনে নন্দিনীর শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে তাঁর পক্ষে হেঁটে সাত পাক ঘোরা সম্ভব ছিল না। তাই ভালোবাসার অনন্য নিদর্শন স্থাপন করে আদিত্য সিং তাঁর অসুস্থ কনেকে কোলে তুলে নিয়ে বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে পবিত্র সাত পাক সম্পন্ন করেন। এই আবেগঘন মুহূর্ত দেখে উপস্থিত অতিথি এবং হাসপাতালের কর্মীরা আপ্লুত হয়ে পড়েন। অনেকে এই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেন, কারও কারও চোখে জলও দেখা যায়।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আজীবন একসঙ্গে থাকার যে প্রতিশ্রুতি আদিত্য দিয়েছিলেন, এই কঠিন সময়েও তার অন্যথা করেননি। নন্দিনীর অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি তার পাশে থেকেছেন এবং এই শুভ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার জন্য বদ্ধপরিকর ছিলেন। এই কারণেই নার্সিংহোমের মধ্যেই তাঁদের চার হাত এক হয়েছে। ভালোবাসা এবং প্রতিশ্রুতির এই অনন্য নজির এখন সকলের মুখে মুখে।