মিড ডে মিলের মেনুতে যুক্ত হচ্ছে নতুন রেসিপি, রাজ্যের নতুন পদক্ষেপে খুশি পড়ুয়ারা! কি কি থাকবে দেখুন

রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতে মিড ডে মিল (PM Poshan Mid Day Meal) প্রকল্পে এবার নতুন মাত্রা যোগ হতে চলেছে। গতানুগতিক ভাত-ডালের বাইরে গিয়ে এবার শিশুদের পাতে যুক্ত হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় ও পুষ্টিকর পদ। এর মধ্যে রয়েছে জিরা রাইস, আলুর দম, ডিম কারি, এমনকি বিশেষ দিনগুলিতে থাকছে সুস্বাদু পায়েসও। শিক্ষা ও পুষ্টির দিক থেকে সরকারের এই নতুন পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক সময় সরকারের পক্ষ থেকে মাংস বা মাছও দেওয়া হয়ে থাকে এবং কিছু স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিজেদের উদ্যোগে অর্থ সংগ্রহ করে শিশুদের উন্নত খাবার খাওয়ান।
মেনুতে বৈচিত্র্য ও পুষ্টির মেলবন্ধন:
মিড ডে মিলের মান আরও উন্নত করতে এবং শিশুদের জন্য পুষ্টিকর ও বৈচিত্র্যময় খাবার নিশ্চিত করতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বর্ধমানের ১০টি স্কুলের রাঁধুনিদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সেখানে তাদের সবজি সঠিকভাবে কাটা ও ধোয়া, রান্না করার সময় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা (যেমন টুপি ও গ্লাভস পরা) এবং কীভাবে পুষ্টিগুণ বজায় রেখে সুস্বাদু খাবার রান্না করা যায়, সে সব বিষয়ে শেখানো হচ্ছে। শিশুদের স্বাস্থ্য এবং খাবারের প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়ানোর কথা মাথায় রেখেই নতুন পদগুলি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে প্রতিদিনের খাবারে একঘেয়েমি না আসে।
নতুন সংযোজিত পদগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
জিরা রাইস ও আলুর দম
ডিম কারি (সপ্তাহে নির্দিষ্ট একটি দিন)
মুগ ডাল খিচুড়ি ও পায়েস (বিশেষ দিন বা স্কুলের অনুষ্ঠানগুলিতে)
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বৈচিত্র্যপূর্ণ খাবার শিশুদের কেবল শারীরিক পুষ্টিই জোগাবে না, স্কুলের প্রতি এবং পড়াশোনার প্রতি তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করতেও সহায়ক হবে।
পড়ুয়াদের উপস্থিতি ও পুষ্টিতে ইতিবাচক প্রভাব:
মিড ডে মিলের মেনুতে পরিবর্তনের ইতিবাচক প্রভাব ইতিমধ্যে কিছু স্কুলে দেখা যেতে শুরু করেছে। নতুন খাবারের প্রতি শিশুদের আগ্রহ বাড়ার কারণে স্কুলে তাদের উপস্থিতির হারও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে বিদ্যালয় স্তরে শিক্ষার প্রসারের জন্য শিশুদের স্কুলমুখী করা এবং তাদের স্কুলে ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতিদিন একঘেয়ে খাবার না দিয়ে শিশুদের পছন্দের ও পুষ্টিকর খাবার দিলে তাদের খাওয়ার প্রতি আগ্রহ বাড়ে এবং শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ হয়। বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, ডাল, চাল, ডিম এবং দুধ জাতীয় খাবার শিশুদের সঠিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য অপরিহার্য। তাই নতুন মিড ডে মিলের তালিকা স্বাদ এবং স্বাস্থ্য – দুটো দিকই নিশ্চিত করছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজ্য সরকার একটি সম্ভাব্য সাপ্তাহিক মেনু চালুর পরিকল্পনা করছে যেখানে নির্দিষ্ট দিনে বিশেষ পদ থাকবে। যেমন:
সোমবার ও বৃহস্পতিবার: জিরা রাইস ও আলুর দম
মঙ্গলবার: সাদা ভাত, ডাল ও সবজি
শুক্রবার: খিচুড়ি ও পায়েস
সপ্তাহে একদিন: ডিম কারি
সম্প্রতি কেন্দ্র সরকার প্রধানমন্ত্রী পোষণ মিড ডে মিল প্রকল্পের জন্য অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দ করেছে। এর ফলে রান্নার উপকরণ সংগ্রহ এবং খাবার তৈরির পদ্ধতিতেও উন্নতি আনা সম্ভব হচ্ছে। নতুন পদ যুক্ত করার ক্ষেত্রে সরকার স্থানীয় বাজারে উপলব্ধ উপকরণগুলির গুণমানের উপরও বিশেষ নজর রাখছে।
এই পরিবর্তনে স্কুলের শিক্ষক এবং অভিভাবকরা খুশি। অনেক অভিভাবক জানিয়েছেন যে, আগে তাদের সন্তান স্কুলে যেতে অনীহা দেখাত, কিন্তু নতুন মেনুর কথা শুনে তাদের আগ্রহ বেড়েছে। শিক্ষকরাও মনে করছেন, খাবারের বৈচিত্র্য শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলবে।
এই উদ্যোগটি অত্যন্ত ইতিবাচক হলেও, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই উন্নত মিড ডে মিল মেনু এখনও সমগ্র রাজ্যে ব্যাপকভাবে চালু হয়নি। এটি বর্তমানে পাইলট প্রকল্প বা নির্দিষ্ট কিছু স্কুলের নিজস্ব উদ্যোগের অংশ। রাজ্য সরকার আশাবাদী যে এই ধরনের উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে শিশুরা শুধু শারীরিকভাবে সুস্থই থাকবে না, শিক্ষার ক্ষেত্রেও তারা আরও এগিয়ে যাবে। তবে সমগ্র রাজ্যে কবে এই উন্নত ব্যবস্থা পুরোপুরিভাবে কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।