“আমরা তিন দশক ধরে, এই নোংরা কাজটি করে আসছি”-জঙ্গিদের সাহায্যর কথা স্বীকার পাকিস্তানি মন্ত্রীর

কাশ্মীরের পহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর যখন ভারত পাকিস্তানকে দায়ী করছে এবং কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, ঠিক তখনই পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ প্রকারান্তরে স্বীকার করে নিলেন যে তার দেশ অতীতে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলোকে সাহায্য ও প্রশিক্ষণ দিয়েছে। যদিও এর জন্য তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের উপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেছেন।

এক সাংবাদিক তাকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলিকে সমর্থন করার পাকিস্তানের দীর্ঘ ইতিহাস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে খাজা আসিফ বলেন, “আমরা তিন দশক ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমাদের জন্য, যার মধ্যে ব্রিটেনও রয়েছে, এই নোংরা কাজটি করে আসছি।” তবে, তিনি দ্রুত নিজেকে সামলে নিয়ে বলেন যে এটি একটি ভুল ছিল এবং পাকিস্তানকে এর জন্য কঠিন ফল ভোগ করতে হয়েছে। তার দাবি, যদি তারা সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে এবং পরবর্তীতে ৯/১১ হামলার পরে আফগানিস্তানে যুদ্ধে আমেরিকার পাশে না দাঁড়াতো, তাহলে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানের একটি ভাল ট্র্যাক রেকর্ড থাকত। আসিফ এমনকি দাবি করেন যে আফগানিস্তানে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আমেরিকা সন্ত্রাসবাদীদের ‘প্রক্সি’ হিসেবে ব্যবহার করেছিল।

ভারত দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে ব্যবহার করে এবং লালন-পালন করে। পহেলগাঁওয়ের ২৬ জন নিরীহ পর্যটকের হত্যাকাণ্ডের পিছনেও ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি পাকিস্তানের মদদপুষ্ট জঙ্গিদেরই দেখছে। এই ঘটনার পর ভারত কড়া জবাব দেবে আগেই জানিয়েছে, যা নিয়ে পাকিস্তানের মধ্যে স্পষ্টতই ভয় কাজ করছে। খাজা আসিফের কথাবার্তাতেই তা ফুটে উঠেছে।

তবে খাজা আসিফ নির্লজ্জভাবে অভিযোগ করেছেন যে পহেলগাঁও হামলা ভারত নিজেই পরিকল্পনা করে ঘটিয়েছে, যাতে এই অঞ্চলে, বিশেষ করে পাকিস্তানের জন্য সংকট তৈরি করা যায়। সাক্ষাৎকারে আসিফ দাবি করেন যে লস্কর-ই-তৈবার এখন আর কোনও অস্তিত্ব নেই এবং তিনি কখনও দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের নাম শোনেননি। তিনি বলেন, “লস্কর একটি পুরানো নাম। এর অস্তিত্ব নেই।” তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান সরকার স্পষ্টভাবে পহেলগাঁও হামলার নিন্দা করেছে এবং পাকিস্তান কয়েক দশক ধরে সন্ত্রাসবাদের শিকার।

২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর ভারতের বালাকোট এয়ার স্ট্রাইকের মতো সম্ভাব্য সামরিক জবাবের বিষয়ে পাকিস্তান উদ্বিগ্ন কিনা, এই প্রশ্নের উত্তরে আসিফ একটি ‘পুরোদস্তুর যুদ্ধ’ সম্পর্কে সতর্ক করে দেন। তিনি বলেন, “যদি কোনও সর্বাত্মক আক্রমণ বা এই জাতীয় কিছু হয়, তবে অবশ্যই একটি পুরোদস্তর যুদ্ধ হবে। দুটি পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে সংঘর্ষ সর্বদা উদ্বেগজনক।” তার এই মন্তব্যে একদিকে যেমন পাকিস্তানের ভয় প্রকাশ পেয়েছে, তেমনই সন্ত্রাসবাদ নিয়ে তাদের দ্বৈত নীতিও ফের একবার সামনে এসেছে।