পহেলগাঁও কাণ্ডে ‘ব্যর্থতা স্বীকার’ করল কেন্দ্র, সর্বদল বৈঠকে বসে অমিত শাহ বললেন….

জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলায় পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রদানে ত্রুটি বা গাফিলতি ছিল—এবার এমনটাই স্বীকার করে নিয়েছে সরকার পক্ষ। গত ২৪শে এপ্রিল সন্ধ্যায় দিল্লিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সর্বদলীয় বৈঠকেই সরকার এই গোয়েন্দা ব্যর্থতার কথা কার্যত মেনে নিয়েছে। জানা গেছে, খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বৈঠকে উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছে সরাসরি ভুল হওয়ার কথা বলেছেন।

‘ইন্ডিয়া টুডে’-র একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বদলীয় বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাকি বলেন, “ভুল তো হয়েছে। যদি কোনও ভুল না হত, তাহলে তো আর আমরা সকলে এখানে (সর্বদল বৈঠকে) বসে থাকতাম কি? কোথাও না কোথাও নিশ্চিত ভাবে ব্যর্থতা রয়েছে। সেটাই খুঁজে বের করতে হবে।” অন্যদিকে, এই স্পর্শকাতর মুহূর্তে দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বিরোধী দলগুলি। তারা একযোগে বার্তা দিয়েছে যে এই ক্ষেত্রে সরকার যে পদক্ষেপ করবে, তারা তাতে পূর্ণ সমর্থন জানাবে।

পহেলগাঁও হামলার ঘটনা নিয়ে কেন্দ্রের ডাকা এই গুরুত্বপূর্ণ সর্বদলীয় বৈঠকে যোগ দেওয়ার পর লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান যে বিরোধীরা সরকারকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। তিনি বলেন, সকলেই পহেলগাঁওয়ের হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন এবং এই ইস্যুতে যে কোনও ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন বিরোধী নেতারা।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা করে বলেছেন, সব দলই এই ঘটনার নিন্দায় একমত এবং জম্মু ও কাশ্মীরে শান্তি বজায় রাখার জন্য সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালানো উচিত। তিনি বলেন, “আমরা বলেছি, জম্মু ও কাশ্মীরে শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করা উচিত।” তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সর্বদলীয় বৈঠকে নিরাপত্তার গাফিলতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে তাঁদের।

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “নিরাপত্তার গাফিলতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা সরকারকে আশ্বস্ত করেছি যে দেশের স্বার্থে সরকার যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, সব রাজনৈতিক দল সরকারের পাশে থাকবে।” অন্যদিকে, আম আদমি পার্টির সাংসদ সঞ্জয় সিং বলেছেন, “এই হামলার জন্য কার দায় তা ঠিক করা দরকার। গোটা দেশ ক্ষুব্ধ, দুঃখিত এবং দেশ চায় কেন্দ্রীয় সরকার সন্ত্রাসবাদীদের তাদের ভাষাতেই উপযুক্ত জবাব দিক।”

প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সর্বদল বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সহ বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী সব দলের নেতাদের এই ঘটনা এবং সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে বিস্তারিত অবহিত করেছেন।