পহেলগাঁও-র পর জঙ্গিদের নিশানায় কি এবার অন্য রাজ্য? উচ্চ সতর্কতা জারি করল হিমাচল প্রদেশ

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈশরণ উপত্যকায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিরীহ পর্যটকের মৃত্যুর পর শোক ও ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা ভারত। এই হামলার জেরে জম্মু ও কাশ্মীরের সীমান্তবর্তী রাজ্য হিমাচল প্রদেশজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উপত্যকায় সবকিছু স্বাভাবিক আছে দেখানো হলেও, বাস্তবে পরিস্থিতি যে ভিন্ন, তা এই হামলা প্রমাণ করে দিয়েছে। অতীতে বাইরে থেকে আসা লোকজনের উপর হামলা হতে পারে বলে গোয়েন্দারা সতর্ক করেছিলেন, তারপরও কেন পর্যটকদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হল না, সেই প্রশ্নও উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

এই আবহে হিমাচল প্রদেশ সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের সঙ্গে সীমান্তবর্তী চাম্বা এবং কাংড়া জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে জোরদার করেছে। হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু পহেলগাঁওয়ের হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি রাজ্যের সমস্ত পুলিশ আধিকারিকদের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে বিশেষ নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যখন এই ধরনের ঘটনা ঘটে, তখন অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। আমি পুলিশ কর্মীদের জম্মু ও কাশ্মীর সংলগ্ন সীমান্তে তাদের তৎপরতা আরও বাড়াতে বলেছি।” হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং নিরাপত্তা গাফিলতির তদন্ত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন।

হিমাচলের রাজ্যপাল শিব প্রতাপ শুক্লা এই ঘটনাকে কাপুরুষোচিত কাজ এবং যারা এটি করেছে তারা মানুষ নয় বলে মন্তব্য করেছেন। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি প্রতিভা সিংও এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। বিরোধীদলীয় নেতা এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জয়রাম ঠাকুর এই জঘন্য কাজকে কেবল মানবতার উপর কলঙ্কই নয়, বরং শান্তি ও সদিচ্ছা ধ্বংস করার কাপুরুষোচিত প্রচেষ্টা বলেও উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, কোনও সভ্য সমাজে এই ধরনের নৃশংসতা সহ্য করা যায় না। বিজেপি সভাপতি রাজীব বিন্দালও হামলার নিন্দা করে বলেছেন যে অপরাধীদের রেয়াত করা হবে না এবং তাদের শেষ করা হবে। তিনি সন্ত্রাসবাদী এবং তাদের সমর্থনকারীদের প্রতিটি রক্তের ফোঁটার জন্য জবাবদিহি করতে হবে বলে হুঙ্কার দেন। রাজ্য বিজেপির সহ-প্রধান সঞ্জয় ট্যান্ডন এই হামলাকে মানবতার উপর আক্রমণ আখ্যা দিয়ে এটি কোনও অবস্থাতেই সহ্য করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন।

পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলার প্রতিবাদে হিমাচল প্রদেশের বাসিন্দারাও সরব হয়েছেন। বিলাসপুর জেলার ঘুমারউইনের ব্যবসায়ীরা বুধবার দুপুর ১টা পর্যন্ত বাজার বন্ধ রেখে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়াও, এই ঘটনার প্রতিবাদে ঘুমারউইন এবং শিমলায় প্রতিবাদ মিছিল করেছেন মানুষ। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এবং নিরীহ মানুষ হত্যার বিরুদ্ধে এই মিছিল থেকে জোরালো স্লোগান উঠেছে। রাজ্য বিজেপির সহ-প্রধান সঞ্জয় ট্যান্ডন শিমলার প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন। হিমাচল প্রদেশের জনগণ একযোগে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তাদের দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট করেছে।